1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল সংকট, চালকদের দুর্ভোগ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

বাগেরহাটে এক সপ্তাহ ধরে তীব্র জ্বালানি তেল সংকট চলে আসছে। ঈদের তিনদিন আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই সমস্যায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকার পরও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না যানচলাচলের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা।

সরকারি অফিস খুললে সমস্যার শেযশত কমবে বলে আশাও করেছিলেন স্থানীয়রা, কিন্তু বাস্তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ পাম্পে তেল মেলেনি। শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ও বরকত পাম্পে তেল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালক ইউনুস শেখ ১১ কিলোমিটার দূরে সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী পাম্পে ছুটে যান। সেখানে ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে।

জেলায় মোট ২৩টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে — বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও শরণখোলা উপজেলার প্রতিটি পাম্পেই তীব্র তেল সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যান্য চারটি উপজেলার মানুষরাও এসব পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ তেল পাচ্ছে তারা, ফলে বিক্রি করার মতো পর্যাপ্ত জোগান হচ্ছে না। অনেক সময় পাম্প পুরো ভরাট রাখা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ঔষধ কোম্পানিতে কর্মরত রোকনুজ্জামান জানান, পেশাগত কারণে প্রতিদিন একশ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালাতে হয়, আর এক সপ্তাহ ধরে তেলের তীব্র সংকটে তিনি উদ্বিগ্ন। সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করা নুরুজ্জামান বলেন, গতকাল রাতেই তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার তেল নিয়ে এসেছেন এবং সুযোগ পেলেই পাম্পে ঢুকে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ কাজ চালাতে মোটরসাইকেল অপরিহার্য।

পাম্প মালিকরা বলছেন, সাধারণত গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে ডিজেল অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে যাতে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ না পড়ে এবং ধান ও অন্যান্য ফসলের রেকর্ডায়ন ব্যাহত না হয়। তবে গণপরিবহনের চালকরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদেরকে অতিরিক্ত চাপে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। রায়েন্দা-ঢাকা রুটের বাস চালক আনসার মুসল্লী বলেন, ডিজেলের অভাবের কারণে নির্ধারিত সময়মতো বাস চালানো যাচ্ছে না; মাঝপথে একাধিক পাম্পে দাঁড়াতে হয়, ফলে যাত্রীরা অভিমত প্রকাশ করে ক্ষুব্ধ হন।

কিছু পাম্পের কর্মীরা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত জানান। খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের নজেল ম্যান আছাদ জানান, প্রতিদিন তাদের পর্যাপ্ত আনুশীলন অনুযায়ী প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ২ হাজার ৫শ লিটার অকটেন দরকার, কিন্তু ডিপো থেকে দুই দিন পর মাত্র ১৫শ লিটার অকটেন এবং পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় এবং চালকরা তাদের ওপর অসহিষ্ণুতা দেখান। কচুয়ার সাইনবোর্ড বাজারের ওসমান আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ডিপো তেল পাঠানো মাত্রই সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে; তবে প্রয়োজনের তুলনায় কম জোগান আসায় সমস্যা হচ্ছে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের এই সংকটের একটি বড় কারণে সাধারণ মানুষজনের মধ্যে অবৈধ মজুদ ও ট্যাংকি ভর্তি রাখা। কেউ কেউ বাড়তি মুনাফার আশায় তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন, আবার প্রয়োজন ছাড়াও ট্যাংকি পূর্ণ করে রাখায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তদারকি শুরু করেছে এবং মজুদকারীদের চিহ্নিত করে কারও বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিভাগীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, ডিপো-অপারেটর ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত যোগান স্বাভাবিক করাসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় যান চলাচল ও কৃষি কাজে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo