1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

তেলবাজার সামলাতে ইরানের তেল চান ট্রাম্প — নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সহিংসতার তৃতীয় সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে তেলবাজারের অস্থিরতা তীব্র রূপ নিয়ে উঠেছে। সামরিক সংঘর্ষের মাঝেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে এবং মাত্র তিন সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় এক-তৃতাংশ বেড়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গড় পেট্রোলের দাম ঘণ্টাব্যাপী বাড়ছে — বর্তমানে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ ডলারের কাছাকাছি, যা সাধারণ ভোক্তাদের কেবলে লেগেছে।

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের বিঘ্ন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন ঘটায় তেলের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তেল সরবরাহহীনতার এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা অনুযায়ী একটি অনস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন — সমুদ্রে ভাসমান প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি কাঁচা তেল মিত্র দেশগুলোর কাছে বিক্রির অনুমতি দেওয়া। সূত্র জানায়, এই তেলের জন্য একসময় চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিল; এখন ওয়াশিংটনই সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে মিত্র দেশগুলোকে তেল কিনতে উৎসাহিত করতে পারে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে এটি ট্রাম্পের জন্য জটিল ও বিতর্কিত পদক্ষেপ। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নীতি নিয়ে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা ছিল—তবে এখন তিনি নিজে সেই নীতির বিপরীতে যেতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জ্বালানি কর্মকর্তা নীলেশ নেরুরকার জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ‘‘তেলের বাজারের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়’’ বলে তিনি অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে যে পরিমাণ তেলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলা করার জন্য পর্যাপ্ত মজুদ বা বিকল্প পথ হাতে নেই।

অন্যদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে ইরান এই তেল বিক্রির ফলে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না এবং তानিয়ে রাখা হচ্ছে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিশ্ব বাজারের মাত্র আনুমানিক দেড় দিনের চাহিদার সমান; তাই এই তহবিল ছাড়া তেলের দাম স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা কতোটা সম্ভব, সে বিষয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত শেষ হতে পারে। তাতে রাজি নয় অনেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ — তাদের মতে যতদিন হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা থাকবে, ততদিন জ্বালানির দাম উপর পর্যন্ত থাকবে। হোয়াইট হাউস মুখপাত্র টেলর রজার্স আশ্বস্ত করতে বলেছেন, ‘যদি সামরিক লক্ষ্য পূরণ হয় তেলের দাম আগের চেয়েও কমে যাবে,’ কিন্তু সেই লক্ষ্য কবে অর্জিত হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাতের গর্জনের পাশাপাশি তেলের বাজারের ওঠানামাই হোয়াইট হাউসের জন্য শীর্ষস্থানীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কিভাবে মোড় নেবে—তা নির্ভর করবে কক্সস্থল ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের timing এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নেওয়া আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর।

তথ্যসূত্র: সিএনএন

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo