1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা — দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিতে

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

গত বুধবার ইসরায়েল ইরানের পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে। জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরোধ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই সংঘর্ষে কাতারের প্রধান গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র দুই দফায় রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে আঘাত হানে। ফলে উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবস্থানে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হলো এবং এর প্রভাব ওই অঞ্চলের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্ব বাজারেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

রাস লাফান, যা রাষ্ট্রায়ত্ত কাতার এনার্জি পরিচালিত, বিশ্বসেরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে গ্যাস সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বন্দরের সুবিধা একসঙ্গে রয়েছে। কাতার বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ রপ্তানি করে—যুক্তরাষ্ট্রের পর এটি সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববাজারে কাতারের সরবরাহে কোন ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত মূল্য ও যোগান শৃঙ্খলে ছাপ ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মার্চের শুরু থেকে ওই অঞ্চলে অনেক এলএনজি ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। উৎপাদন স্থাপনাগুলোর যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তাতে কেন্দ্রটি পুরোপুরি পুনরায় চালু করতে সময় লাগতে পারে এবং এই বিরতি বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট বাড়াবে।

দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ—বিশেষ করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারত—এক্ষত্র সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। তাদের এলএনজি আমদানি-চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি কাতার থেকে আসে এবং মজুত ক্ষমতাও সীমিত, ফলে সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে। এ ছাড়া এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকেও অনেক দেশ সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব অনুভব করবে।

রাস লাফানে কেবল এলএনজি নয়; এখানে সার উৎপাদন (ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া), সালফার এবং হিলিয়ামও তৈরি হয়—যা কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তি উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হিলিয়াম মাইক্রোচিপ তৈরিতে অপরিহার্য; কাতার এনার্জির তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববর্ষের প্রায় ২৫ শতাংশ হিলিয়াম সরবরাহের সক্ষমতা এই কেন্দ্রে রয়েছে।

ভৌগোলিকভাবে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি কাতারের উপদ্বীপের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, রাজধানী দোহার থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর দিকে অবস্থিত। এটি পার্স উপসাগরের বিশাল একটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে—যেটি কাতার ও ইরান যৌথভাবে ভাগ করে নেয়; কাতার তাদের অংশকে নর্থ ডোম বলে, আর ইরান সেই একই ক্ষেত্রকে সাউথ পার্স নামে চেনে।

এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হল যে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর উপর সামান্য আঘাতও দ্রুত বিশ্ব বাজারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন পরিস্থিতি কীভাবে স্থিতিস্থাপক হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো কবে পূর্ণ কার্যকারিতায় ফিরবে, সেটাই আগামী দিনগুলোতে নজরের কেন্দ্রে থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo