1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বরিশালে আদালতভুক্ত আইনজীবীদের হট্টগোল ও অশান্তি নগদে বড় বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, সমন্বয় করছেন ব্যারিস্টার আরমান স্বার্থ রক্ষা হলে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বজায় থাকবে: হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগের ঘোষণা, প্রবাসী কল্যাণে নতুন পরিকল্পনা র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের দফতর পুনর্বণ্টন: কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? এলপিজির দাম ১৫ টাকা কমলো নতুন আইজিপি হিসেবে নিযুক্ত আলী হোসেন ফকির দুদকের ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদবদল

খুলনা অঞ্চলের পাটকলে অস্বাভাবিক দামে কাঁচা পাটের সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

খুলনা অঞ্চলের ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় দামের বাইরেও বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক মিল পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে হাজার হাজার শ্রমিকের কাজ হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি মিলগুলোও আর্থিক ক্ষতিতে পড়েছে এবং বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা দিন দিন মিলগুলোতে এসে বসে থাকলেও কার্যকর কোনো কাজ করতে পারছেন না, কারণ কাঁচা পাটের সংকট প্রকট। একইভাবে অন্যান্য মিলগুলোর শতাধিক কর্মসূচি থেমে গেছে বা খুবই সীমিত আকারে চলছে। শ্রমিকরা ভীত, যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকে তাহলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, দেড় মাস ধরে আমরা শ্রমিকরা বসে আছি, কাজ কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাট না থাকায় মালিকরা মিল চালাতে পারছেন না। যদি এই অবস্থা দীর্ঘদিন থাকে, তবে আমাদের চাকরি চলে যাবে, এবং নতুন কাজও কঠিন হয়ে পড়বে। অন্য একজন শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, আমাদের দিয়ে মালিকরা কাঁচা পাট থেকে এক টাকা আয় করলে আমাদের মাঝে সেটার এক пайызও দেওয়া হয় না। এই মিলটি গত তিন বছর ভালোই চলছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় কাঁচা পাটের সংকটের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আশায় আছি।’

মিলের মালিকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রতি মণ প্রায় ৩২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। দ্বিগুণ দামে পাট কেনায় উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে, তবে পণ্যMarket এর মূল্য ততটা বৃদ্ধি না পাওয়ায় উদ্যোক্তারা উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

দৌলতপুর জুট মিলের উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলি­ক বলেন, বাড়তি দামে পাট কিনতে গিয়ে এখন মিল চালানো খুবই কঠিন। আগে প্রতি মণ পাট ৩২০০ টাকায় কিনে আমরা প্রতিটি বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, কিন্তু এখন ৫২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে উদ্যোক্তারা শ্রমিকের কথা চিন্তা করে মিল চালু রেখেছিলেন, কিন্তু এখন পাটের দাম এত বেড়ে গেছে যে, একটি বস্তা উৎপাদনে খরচ হয় ১২০ টাকার বেশি, কিন্তু বিক্রি মূল্য খুবই কম, ফলে মিল এখন বন্ধ।

তিনি আরো জানান, কাঁচা পাটের এই সংকট কৃত্রিম বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এ বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের উৎপাদন কম হয়নি, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে রেখেছেন। সরকার যদি তদারকি না করে, তাহলে মিল চালানো সম্ভব হবে না।’

যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইলের উৎপাদন প্রায় একই স্তরে রয়েছে। কৃষি অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অঞ্চলে ৩৯ হাজার ৩৪৪ হেক্টরে ৯৪ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৬৮ হেক্টরে ৯১ হাজার ১৩৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদিত হয়েছে। তবে মিল মালিকেরা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যবসায়ীর মজুতের কারণে সিন্ডিকেট করে তারা দাম বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, সৌদি বাজারে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও তদারকি বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, কয়েকটি অসাধু ব্যবসায়ী কাঁচা পাট অবৈধভাবে মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে রেখেছে, যার কারণে দাম বাড়ছে। ব্যাংকের থেকে ঋণ নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে, সরকার যেন এ বিষয়গুলোতে উদ্যোগ নেয়।

এদিকে, পাট অধিদফতর বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। একজন আড়তদার বা ডিলার এক মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ মণের বেশি পাট মজুত করতে পারবেন না, তা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে। দাম সহনীয় রাখার জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করা যায় শিগগিরই পাটের বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।’

খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারাকৃত ও বেসরকারি পাটকল রয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে মোট প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়। এর একটি বড় অংশ বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। তবে এখন যে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রফতানি দুই ক্ষেত্রেই বড় ক্ষতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo