বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় বড় এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের দায়ের করা চারটি অভিযোগের তদন্ত শেষে বোর্ডের স্বাধীন তদন্ত কমিটি দুটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এর ফলस्वরূপ, মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর নামে পরিচিত সাবেক এই ক্রিকেটারকে দেশের সব ধরণের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যদি তিনি আইনি পথে যান, তবে বোর্ড তার পক্ষেও সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর, যখন জাহানারা আলম চীনে অবস্থানকালে একটি ইউটিউব চ্যানেলে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি হৈচৈ সৃষ্টি করে।
এর আগে, জানুয়ারি মাসে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার নেতৃত্ব দেন সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি তারিক উল হাকিম। কমিটি শুরুতে তিন সদস্যের হলেও পরে পাঁচ সদস্যে রূপান্তরিত হয় এবং তিন দফায় সময় বাড়িয়ে শেষমেশ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তের মাধ্যমে পত্রে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বোর্ড প্রমাণ পায় যে, মঞ্জুরুলের কিছু কর্মকাণ্ড দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশিকায় বর্ণিত অসদাচরণ এবং হয়রানির সংজ্ঞায় পড়ে।
প্রশংসার জন্য, বোর্ডের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঞ্জুরুলকে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, ভুক্তভোগী চাইলে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেন, আর বোর্ড তার পাশে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
সবার এখন মূল চাওয়া হচ্ছে, বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে, এটি দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দুর্নীতি ও অসদাচরণ বিরোধী জোরালো বার্তা দেবে।