1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে পাটকলগুলো উৎপাদন বন্ধ

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন ইজারা পাওয়া ও বেসরকারি পাটকলগুলোতে বর্তমানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ হলো কাঁচা পাটের অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া দাম। যেখানে আগে সহজে পাট সংগ্রহ করা যেত, এখন কাঁচা পাটের খুচরা মূল্য দ্বিগুণের বেশি উঠেছে। এর ফলে উৎপাদন খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং অনেক মিলের পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর শঙ্কায় বসে রয়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলোর অর্থনৈতিক ক্ষতিসহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা চোখে পড়ছে।

দৌলতপুরে অবস্থিত দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আশাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গত দেড় মাস ধরে মিলটি বন্ধ রয়েছে কারণ কাঁচা পাটের সংকট। তারা প্রতিদিন মিলের সামনে এসে অপেক্ষা করেন, কিন্তু কাজের জন্য কাঁচা পাটের অভাব থাকায় কর্মহীন থাকছেন। একই পরিস্থিতি অন্যান্য মিলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন, যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে কাজ থেকে ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলেন, মালিকরা পাটের জন্য এখন দ্বিগুণের বেশি দামে কিনছেন, কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি তবে উৎপাদন চালানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ছে।

মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুম শুরুতে প্রতি মণ পাটের মূল্য ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৫২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বাড়ছে। ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে তারা বলছেন, আগে যেখানে ৩২০০ টাকায় পাট কিনে ৮০ টাকায় বিক্রি করতেন, এখন ৪০০০ টাকায় কিনে হলেও লাভের জন্য কেউ তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না। এখন পাটের দাম skyrocket হওয়া এবং বাজারে মূল্য স্থিতিশীল না থাকায় তারা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে পাটের মজুত রাখার মাধ্যমে দাম বাড়াচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত দুই বছর ধরে খুলনা ও আশপাশের जिलাগুলিতে পাটের উৎপাদন মোটেও কমেনি। তবে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কারণে বাজারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন সরকারের ভাষ্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মাধ্যমে মূলত অবৈধভাবে পাট মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করা হচ্ছে। ফলে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ সুবিধাও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি সরকারের দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণের আহ্বান জানান।

পাট অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা নিয়মিত বাজার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাদের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার উল্লেখ করেন যে, একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবে এবং এ বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রোজ নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়।

খুলনা অঞ্চলে মোট ২০টি পাটকল রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি। এসব মিলগুলোতে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদন হয়, যার বড় অংশই বিদেশে রফতানি করা হয়। তবে চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অর্থনীতি ও রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগার আশংকা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মত সরকার যদি বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারে, তবে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি হাত থেকে রেহাই পাবে না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo