অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া তাজুল ইসলামকে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে। তবে, আগামী বছরের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজের অপূর্ণ অংশটি নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে সম্পন্ন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সদ্য বিদায়ী তাজুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। এর মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে তিনি ২০১৭ সালে গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচারের জন্য কাজ করেছেন।
বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়, তাজুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের পছন্দের লোকদের বিভিন্ন পদে বসানো স্বাভাবिक বিষয়। এর মাধ্যমে তিনি বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তে আমি কোনো আশ্চর্য হইনি।”
তাজুল ইসলাম স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমি নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে স্বাগত জানাই। আমি আশা করি তিনি আমাদের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায়িত্ব বাস্তবায়নে সফল হবেন।” তিনি আরও বললেন, তাঁর দায়িত্বকালে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন তা বর্ণনা করে—প্রথমে ট্রাইব্যুনালের মূল ভবনটি অপ্রশস্ত ও অবহেলিত ছিল, যেখানে অফিসে প্রয়োজনীয় সব উপকরণও ছিল না।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে, সরকারের নির্দেশ ছিল যে, বর্তমান অবস্থায় কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তবে, গতকাল তারা জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তখন তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আমি কি পদত্যাগ করে চলে যাব?” সরকার বলেছে, “নাই, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া”, কারণ নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া প্রাকৃতিকভাবেই হবে।
বিজ্ঞানের এই দিকটির প্রতি আরও বিশদ আলোকপাত করে, তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচিত সরকার তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের স্থান-পরিবরত করে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বিগত দেড় বছরে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা, এবং বাংলাদেশের গুম, হত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এমন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা আর ঘটবে না।