শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিশেষভাবে নিশ্চিত করেছেন, তারা দুই মন্ত্রী কখনো দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকে দুর্নীতিতে সহায়তা দিতেও দেবেন না। আজ সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের একসভায় শিক্ষাকার্যকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমরা দুটি মন্ত্রীর দৃষ্টিকোণে দুর্নীতি মুক্ত মানসিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এই মন্ত্রণালয়সহ পুরো শিক্ষা বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত রাখাই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা একত্রিতভাবে সিদ্ধান্ত নেব, যাতে কোনভাবেই দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব এখানে স্থায়ীভাবে প্রবেশ করতে না পারে। এ বিষয়ে আমাদের দৃঢ় প্রত্যয় রয়েছে।
এছাড়া, শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্ট বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বাজেটের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এখানেও গুরুত্ব ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগের বিষয়েও আশ্বাস দেন, সেগুলোর পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডির বিষয়েও তিনি আলোচনা করেন। পাশাপাশি, একাধিক আর্থিক দায়িত্ব একটি ব্যক্তির কাছে না দিয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন।
এনটিআরসি বা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছ, তার রিভিউ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন কার্যকর করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা দুর্নীতি করি না, করব না এবং করতে দেব না।’ শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার এই অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে বজায় রেখে চলেছে।
অভিযোগ সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর উপর শিগগিরই বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অর্জিত পরিস্থিতিতে, বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারণে শিক্ষা খাতের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মত প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও এই বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনোভাবেই থাকতে দেওয়া হবে না। তিনি নিজেও এবং শিক্ষামন্ত্রী উভয়ই এই ব্যাপারে কোন ছাড় দেবেন না।
সবমিলিয়ে, এই সভায় পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা হবে।