1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি: চার জেলায় পানিবন্দি ৬ হাজার পরিবার আগামী পাঁচ দিনে দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহারে আহত রাফি মারা গেলেন মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুজব ঠেকাতে পিআইডির ফ্যাক্ট-চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত: তথ্যমন্ত্রী কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটপ্রহর; সাজিদ চৌধুরী রাফি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু

ডাকাত আতঙ্কে দুবলার চরের ১০ হাজারের বেশি মৎস্যজীবী মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দুবলার চরে বনদস্যুদের আতঙ্কে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন দশ হাজারের বেশি শুঁটকিকরণ জেলে। গত দুই দিনেও নিখোঁজ হয়েছে সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলেকে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন।

দুবলার ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবন ও সাগরে বনদস্যুদের অবাধ বিচরণ ও নিরাপত্তার অভাবের কারণে জেলেরাই এখন মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। তারা এখন চরে বিশ্রাম নিচ্ছেন এবং মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কীভাবে বাড়ি ফিরবেন সে চিন্তায় আতঙ্কে থেকের। তিনি আরও জানান, সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে চারটি বনদস্যু গ্রুপ; এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং জেলেদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করছে। যারা টাকা দিতে পারছে না, তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের হামলায় চার জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের রামপাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকার কারণে দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করলেও, বর্তমানে আবার বন্দুকের নলের মুখে পড়েছেন জেলেরা।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী জানান, আগে ছিলো ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’—এখন বলি, সাগরে গেলে ডাকাত। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। গত ১৫ দিনে অনেক জেলে দস্যুদের হাতে অপহৃত হয়েছেন। এখনো কমপক্ষে শতাধিক জেলে দস্যুদের একটি গ্রুপের কবজায় আছেন। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে অপহরণ করার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। এতদিনেও তাদের কেউ উদ্ধার বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দপ্তর ও সরঞ্জামাদির কার্যালয় সূত্র জানায়, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে রাজস্ব আদায় ও আয়ের বড় ক্ষতি হচ্ছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যুদের তৎপরতা বাড়ায় জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকছেন। এ কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের লক্ষ্য ভেঙে পড়ছে।

অন্যদিকে, শরণখোলা বাজারের মুদি দোকানদাররা বলেন, জেলেরা বনদস্যুদের ভয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছে না, ফলে তাঁদের বিক্রিও কমে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বেড়ে গেছে বনদস্যুদের তৎপরতা, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo