1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন

নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নতুন বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি জানান, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে হলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এবং এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রথম দিনের অফিস করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ডেফার করতে চায় এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানিয়ে আসছেন, সরকারের পক্ষ থেকেও এ উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রথম সপ্তাহে চিঠি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই বিষয়ক কাজ শুরু করেছে সরকার।

রপ্তানির অপ্রত্যাশিত নিম্নগতি প্রসঙ্গে পাত্রবাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও সংকটে রয়েছে। দেশের রপ্তানি বেশিরভাগই একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যার কারণে বৈচিত্র্য আনা জরুরি। নতুন পণ্য ও বাজারের প্রসার করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদেরও সরকারি সহায়তাও দেবে সরকার।

বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত বা সীমিত সুযোগে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মার্জিন খুবই কম, ভুলের সুযোগ নেই, তাই দ্রুততর গতি ফিরে আনার জন্য সরকার কাজ শুরু করেছে।

রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। বলেন, মূলত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ রয়েছে, পাইপলাইনে পর্যাপ্ত স্টকও আছে। এজন্য বাজারকে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করেন তিনি।

রামজান মাসে বাজারে সিন্ডিকেটের প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে, তিনি বলেন, শুধু বক্তব্য দেওয়াই তাঁর কাজ নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেছেন, “আমি সাউন্ড বাইট দেব না, ইনশাআল্লাহ কাজ করে দেখাব।”

পণ্যের দাম অকাল বাড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেবল এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির কারণে হয়। সাধারণত পুরো মাসে মানুষ একসঙ্গে বাজার করে, ফলে দামের অস্থায়ী বৃদ্ধি হয়, যা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগ আসতে চায় না। স্থিতিশীল পরিবেশই প্রধান শর্ত। দেশের বিশাল জনসংখ্যার শ্রমবাজারে প্রতিবছর ২০-২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করে, কিন্তু গত দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ অনেকটা স্থবির থাকায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত কাটানো না গেলে, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজানের শুরুতে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রমজানকে সফলভাবে সামলানো দেশের জন্য বড় পরীক্ষা। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের কাজ সফল হওয়া জরুরি, এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি এই কাজটি ব্যক্তিগত বিষয়ের মতো নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুরোধ করেন, এবং সবাই মিলে একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo