এবারের বছরেও ফিরে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। সামাজিক ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও আকাশে চাঁদ দেখা গেছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সেই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেন্দ্রীয়ভাবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে, যেখানে মাগরিবের নামাজের পর বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ফলে আগামীকাল থেকেই রোজা শুরু হবে।
চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ থেকেই এশার নামাজের পরে তারাবির নামাজ শুরু হবে। রাত গভীর হলে, সাহরি খেয়ে রোজা রাখবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের আকাশে ইতিমধ্যেই মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। সেসব দেশে আজই প্রথম রোজা পালিত হচ্ছে। সাধারণভাবে, সৌদি আরবের একদিন পরে দেশের আকাশে রোজা ও ঈদের চাঁদ উঠতে থাকে।
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির, সংযমের ও ত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ মাস। এই মাসের তিনটি মূল অংশ—রাহমত, মাগফেরাত ও নাজাত; যেখানে রহমত হলো আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ, মাগফেরাত মানে ক্ষমা আর নাজাত হলো দোজখের আগুন থেকে মুক্তি।
রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যে কোনো পাপ কাজে বিরত থেকে রোজা পালন করেন মুসলমানরা। মাসের শেষ অংশে রয়েছে কদর রাত, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ।
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এই মাসে কোনো নেক কাজের সওয়াব আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাত থেকে সত্তর গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। রমজান শেষে পালিত হয় মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।