জানানো সিদ্ধান্তই বোর্ড‑ক্রিকেটারদের বলে মন্তব্য করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অফিসিয়াল পেজে একটি পোস্টে তিনি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার কথা স্বীকার করে স্পষ্ট করে বলেছেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
পোস্টে ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘গতকাল একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচালায় আমাকে বিশ্বকাপ নিয়ে একটা প্রশ্ন করা হয়। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না। এরপর যা বলার চেষ্টা করেছি, তা আমার কথার প্রেক্ষিত বা অন্তর্নিহিত বার্তা ঠিকমতো বোঝা না যাওয়ায় কিছুটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’’
তিনি আরো জানান যে, জানুয়ারির শুরু থেকেই তিনি বারবার নিরাপত্তার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভারতে বিশ্বকাপে না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন এবং এই অবস্থানেই তিনি এখনও অটল। ‘‘গতকাল কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এই বিষয়টি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না এবং আমাকে এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্নও করা হয়নি,’’ পোস্টে যোগ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ উন্নয়নের জন্য দুই কোটি টাকার চেক হস্তান্তরের অনুষ্ঠান। ড. আসিফ লিখেছেন, ‘‘ক্রিকেটের স্পর্শকাতর সময়ে তাদের এই দান আমাকে কিছুটা আবেগাপ্লুত করেছিল। সেসময় যখন সাংবাদিকরা ভেবে দেখার জন্য জিজ্ঞেস করলেন যে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে মূল বিষয়টি হল না—ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।’’
তিনি আরও বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটাও সত্য যে ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে তা মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা ও শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও তারা এটি মেনে নিয়েছে—অতএব দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।’’
শেষে তিনি স্বীকার করেছেন যে অন প্রতিপালিত আলাপে বিষয়টি ঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা তার ব্যর্থতা ছিল এবং পুনরায় জোর দিয়েছেন—বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারী, কিন্তু সেটি বোর্ড ও খেলোয়াড়রাও মেনে নিয়েছে।