ষোড়শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো সরকার গঠনের পথে যাচ্ছে বিএনপি। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে তাদের ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে ১৭৫টি আসনে। অন্যদিকে, জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫৬টি আসন। এর পাশাপাশি, জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৬টি এবং স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য দলের প্রার্থী গেছেন ১১টি আসনে। এখনও ৪২টি আসনের ফলাফল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন।
বিএনপির ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ইতিহাস একেবারে নতুন নয়। সর্বশেষ তারা ২০০১ সালে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফা দেন এবং তার মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ১৯৯১ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এছাড়া, ১৯৯৬ সালে তারা স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল।
ই নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তারেক রহমানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি সরকারে গেলে তারেক রহমানই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং উভয় আসনে তিনি জয়ী হয়েছেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসার সময়, তিনি নির্বাচনী পরিচয় পেয়েছেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে। ১৯৯৩ সালে তিনি গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের প্রথা চালু করেন এবং তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরবর্তীতে, ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারান্তরীত হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর, ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
সংসদীয় গণনায়, বাংলাদেশে সরকার গঠনের জন্য ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ১৫১ আসনে জয় প্রয়োজন। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপি এককভাবে সেই সংখ্যাটা ছুঁতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, এবারই প্রথম সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। আগেরবার তারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ ছিল, এবার তারা প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এই নির্বাচনের ফলে, বাংলাদেশের পার্লামেন্টারিতে নতুন রাজনৈতিক গঠন ও শক্তির ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।