1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

ভারতে বাংলাদেশি ভিন্ন পরিচয় দিয়ে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত নেয়, এবং বারবার আইসিসিকে লিখে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানায় বিসিবি। দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও আইসিসি থেকে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় অবশেষে বাংলাদেশী দল ভারতে না গিয়ে অন্য কোনো সালিসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও ঘোষণা না হলেও, এখনকার পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা বাতিলই বলাই যায়। তবে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিসিবি ও দেশের क्रिकेटপ্রেমীরা আইসিসিকে দায়ী করছেন।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হলেও বাংলাদেশের জন্য আইসিসির মনোভাব ভিন্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে বাংলাদেশি সন্দেহে মানুষজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। এরই মধ্যে, গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে জন্ম নেওয়া এক মুসলিম যুবক মঞ্জুর লস্করকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।’

ফারুকী জানান, মূলত এই উদ্বেগের সূচনা হয় মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা থেকে। ভারতের কিছু চরমপন্থী হিন্দু নেতা তাকে হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি বিশ্বকাপে ঢোকা নিয়েও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে। সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞের মতে, ‘মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা যুক্ত থাকায় বোঝা যায় যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপত্তা হুমকি অনেক বাস্তব ও গুরুতর।’

এদিকে, ভারতে বাংলাদেশি নামে মুসলিম যুবকদের ওপর সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার এক মুসলিম শ্রমিক মঞ্জুর আলম লস্করকেও অন্ধ্রপ্রদেশে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে আক্রমণের শিকার তিনি, ‘বাংলাদেশি’ বলে পরিচয় দিয়ে চুরি-লুণ্ঠনের অভিযোগে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, ৩২ বছর বয়সী মঞ্জুরের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু অঞ্চলে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে অনেক বছর কাটানোর পরও বারবার তাকে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, যেন বাংলাদেশের মানুষ হিসেবেই কাটা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে, এরপর পরিবারের চেষ্টায় কিছু টাকা পাঠানো হলে জানানো হয়, তার অবস্থা গুরুতর। কিছুদিন পরে জানা যায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মঞ্জুরের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন লস্কর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের একজন নেতা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং হিন্দুত্ববাদী ঘৃণামূলক উগ্রবাদী দুষ্কৃতকারীরাই এটি ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোনকলের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তার সহযোগীরাই দায়ী।’

পরিবার জানায়, মনজুরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের কবিরাজপুরের বিষ্ণুপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘদিন অন্ধ্রপ্রদেশের কোমারোলু এলাকায় শ্রমিকের কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে পরিচিত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ বলে আঙুল দিয়ে হুমকি দেওয়া হতো। জানা গেছে, প্রথমে তাকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেওয়া হয়, পরে একটি চুরির মামলায় ফস卷ে ফাঁসানো হয় এবং মরদেহ মেরে ফেলা হয়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের অবহেলার কারণে এই ধরনের অমানবিক কাণ্ড ঘটছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, পরিবার এবং গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে এই ধরনের জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধ হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo