1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ইসি অনলাইনে নয়, ম্যানুয়ালি ইস্যু করবে সাংবাদিক কার্ড নির্বাচন কমিশন: সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রচারণা চালাতে পারবেন না দুদক অনুমোদন: প্রিমিয়ার ব্যাংকের ইকবাল ও সালাম মুর্শেদীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা নির্বাচনে নেই যারা, তাদেরকেই গণ্ডগোলের কথা বলছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকা–করাচি নন-স্টপ ফ্লাইট কাল থেকে শুরু ড. মুহাম্মদ ইউনূস না আসায় ৩৩২ নম্বর এআইকে পাঠালেন প্রধান উপদেষ্টা ৫০তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিতের জন্য রিট দাখিল অ্যামনেস্টির মহাসচিবের খোলা চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে কাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেবে না: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনস

মাইলস্টোন ট্রাজেডি: ৬ মাস ও ৩৫ অপারেশনের পর বাড়ি ফিরল আবিদুর রহিম

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ক্ষতিগ্রস্ত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবিদুর রহিম (১২) শেষ পর্যন্ত ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কর্তৃপক্ষ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার দিন ২১ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত আবিদ এখানে চিকিৎসাধীন ছিল—মোট ছয় মাস বা প্রায় ১৮০ দিন। ওই সময়ে তাদের ইনস্টিটিউটে মোট ৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আবিদ ছিল তাদের মধ্যে সর্বশেষ রোগী। তার দেহের প্রায় ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আঘাতের সঙ্গে ইনহেলেশন বার্ন, মুখ পুড়ে যাওয়া এবং দুই হাত জঘন্যভাবে পোড়ার মতো জটিলতা ছিল। ঘটনার সময় সে ক্লাসরুমের সামনের সারির পাশে ছিল।

অধ্যাপক নাসির জানান, আবিদের অবস্থার তীব্রতা দেখে প্রথমে তাকে পাঁচ দিন আইসিইউতে রাখা হয় এবং এরপর ছয় দিন হাইডি-পেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা চালানো হয়। মোট ১৭২ দিন কেবিনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে তিনি ছাড়পত্রের যোগ্য হন। দুই হাতে গুরুতর ক্ষতির কারণে তাকে ফ্যাসেকটমি করা হয়েছিল—চামড়া কেটে বিভিন্ন শল্যচিকিৎসা করে হাত রক্ষা করা হয়। পুরো চিকিৎসার সময় তার শরীরে মোট ৩৫টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে; ছোট ধরনের অপারেশন ছিল ২৩টি এবং চামড়া লাগানো হয়েছে ১০বার। মূলত মুখ ও হাতের ফ্ল্যাপ কাভারেজ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় হাসপাতালের শয্যায় থাকার কারণে সূর্যালোক ও বাড়ির পরিবেশ থেকে দূরে থাকায় শরীরে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল ও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল; সেগুলো কাটাতে এখন নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন। সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি চেষ্টা করছে যেন আত্মীয়-পরিজনদের কাছে ফিরলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও থেরাপি নেওয়া চালিয়ে যেতে পারে।

পরিচালক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন—আবিদ আজ বাড়ি যাচ্ছে। এই চিকিৎসায় যারা সহযোগিতা করেছেন—চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী—তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অনেক সময় আমাদের ডিউটির সীমা ছিল না, সবাই স্বপ্রণোদিত ভাবে কাজ করেছেন। পরিবারের পক্ষেও অনেক ত্যাগ সহ্য করা হয়েছে; তাদের সহযোগিতাও ছিল অভিনন্দনীয়।” তিনি জানান, সরকার এই চিকিৎসার ব্যয় বহন করার নির্দেশ থাকার কারণে হাসপাতাল কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক অনুদান নেয়নি।

অধ্যাপক নাসির আরও বলেন, মাইলস্টোন ঘটনার মতো বড় বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ও ড্রেসিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা গেছে। ভবিষ্যতে এমন মানসম্পন্ন চিকিৎসা সরবরাহে প্রস্তুত থাকতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। তিনি জানান, যারা এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন তাদের অন্তত দুই বছরেরও বেশি সময় নিয়মিত ফলো-আপে থাকতে হতে পারে; এজন্য একটি বিশেষ সেলও খোলা হয়েছে যেন চিকিৎসার যেকোনো সমস্যা থাকলে সমাধান দেওয়া যায়।

আবিদুর রহিমের বাবা আবুল কালাম আজাদ আবেগভরে বলেন, “আমার ছেলে আজ ছয় মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছে—এটা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি, ‘আজ কেমন লাগছে?’ সে বলল, ‘বাবা, আজ আমার ঈদের মত লাগছে।’ চিকিৎসক ও নার্সদের সহযোগিতায় আমি অভিভূত।” তিনি আরও জানান, ছেলেটি কৃতিষ্ঠভাবে বিশেষ এক চিকিৎসককে ‘অদ্ভুত ডাক্তার’ হিসেবে ডাকত—তার নাম ফোনে সেইভাবেই সেভ আছে।

আবু কালাম সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আহত ও নিহতদের জন্য যে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল তা এখনও ঠিকভাবে দেওয়া হয়নি। ছেলেকে বাড়ি পাঠানোর পরে আরও অনেক চিকিৎসা-বিকল্প অপেক্ষা করছে, যেগুলোর ব্যয় পরিবার বহন করতে পারবে না—সেজন্য তিনি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ পুনঃনির্ধারণের আবেদন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আবিদ নিজেও কথা বলার চেষ্টা করেন; “আজ আমি হাসপাতাল থেকে চলে যাচ্ছি” বলে কেঁদে পড়েন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের যুগ্মপরিচালক অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম, জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ জুলাই বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে অনেকে আহত হন—জাতীয় বার্নে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৬ জন চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo