1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে শতাধিক, ৩ শিশু নিহত, ২ নিখোঁজ আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামালপুরে ভাঙা ড্রাম ব্রিজে পড়ে শতাধিক মানুষ, ৩ শিশু নিহত আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি: বিএনপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী আসুন সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করি — বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান দেশের মানুষ ও বিশ্ব মুসলিমদের পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা ঈদুল ফিতরে পদ্মা-যমুনা সেতুতে রেকর্ড যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলছে, বাতাসে বিষ, প্রতি বছর এক লাখ প্রাণ হারাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার হিমালয় পর্বত থেকে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল জনবসতি অঞ্চলে এখন এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। এক সময়ের উর্বর ও শান্তিপূর্ণ এই অঞ্চলটি বর্তমানে অতি দূষিত বায়ুচ্ছবিতে ভরা, যা স্বাস্থ্য জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ দিন দিন অস্বাস্থ্যকর বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছেন। বায়ু দূষণ এখন আর শুধু পরিবেশের জন্য নয়, বরং এটি এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দ্বিগুণ হুমকিতে ফেলেছে। প্রতিবেদন বলছে, প্রতিবারের মতোই এই দূষণের জন্য প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন, আরও অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে এই দূষণ আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভৌगোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এই দূষণের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্যে পড়েছে। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে হলে দ্রুত সব দেশ মিলেই একটি সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নয়তো জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি উভয়ই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘পরিবর্তনের নিশ্বাস: ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে (আইজিপি-এইচএফ) পরিষ্কার বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক বইয়ে এই সমস্যার গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে – বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ – বায়ু দূষণের মূল উৎস মূলত: রান্না ও গরমের জন্য ব্যবহৃত কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, নির্মাণ ও শিল্পকারখানায় উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তির অভাব, জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তু পোড়ানো, অদক্ষ যানবাহন চালনা, কৃষকরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, সার ব্যবস্থাপনা ও বাড়ি-বসতিতে বর্জ্য পোড়ানোর প্রবণতা। এই সব কারণে অঞ্চলটিতে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়ছে।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, পরিষ্কার বায়ুর জন্য সমাধানগুলোকে তিনটি মূল ক্ষেত্র ভাগ করা হয়েছে: প্রথমত, দূষণ উৎস কমানোর জন্য রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা; দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম চালানো যাতে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও সম্প্রদায়গুলি রক্ষা পায়; এবং তৃতীয়ত, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজারভিত্তিক প্রস্তাবনা ও আঞ্চলিক সমন্বয়। এসবের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যে রয়েছে, তবে এর জন্য দরকার নীতিনির্ধারণকারী ও কার্যক্রমকারীদের সমন্বিত উপায়ে কাজ করার। দক্ষিণ এশিয়ার উদ্যোগ, পরিবার ও কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াতে হবে। সরকারগুলোকেও নিজেদের অঙ্গীকার ও প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, ‘পরিষ্কার বায়ু অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং দক্ষ বাস্তবায়ন জরুরি। কাজ করলে লাখ লাখ জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’ এছাড়াও, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা, তথ্যপ্রবাহ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দূষণ কমাতে পারলে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতি সম্ভব হবে এবং সবাই নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo