1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

‘ক্রসফায়ার’ আতঙ্ক ছিল টেকনাফের ঘরে ঘরে

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০

টেকনাফে এখনো বিরাজ করছে ‘ওসি প্রদীপ’ আতঙ্ক। থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারের আমলের প্রায় দুই বছর রাতে দূরে থাক দিনের বেলাতেও ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেননি হাজারও মানুষ। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া না হওয়া কোনো বিষয় নয়, কখন কাকে কীভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে টাকা আদায় কিংবা মাদক কারবারি তকমায় কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় সেই আতঙ্ক ছিল পুরো টেকনাফের ঘরে ঘরে—এমনটিই বলছেন সাধারণ মানুষ। ওসি প্রদীপ ও তার সঙ্গীদের নির্যাতনের বিবরণ দিতে এখনো ভয় পাচ্ছেন অনেকে। ওসি প্রদীপ আইনের ফাঁক গলে যদি আবার টেকনাফে আসেন বা তার অর্ডারে নিপীড়ন চালানো টিম এখনো থানায় বিদ্যমান থাকায় যেকোনো সময় তাদের বন্দুকের টার্গেটে পরিণত হতে পারেন এমন আতঙ্ক ভর করে আছে তাদের ওপর।

প্রদীপ কুমার দাশ টেকনাফ থানার ওসি হয়ে আসার পর গত ২২ মাসে সেখানে ১৪৪টি ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য এসেছে। এতে মারা গেছেন ২০৪ জন। ক্রসফায়ারে নিহত সবাইকে দেওয়া হয়েছে মাদক কারবারি অথবা অবৈধ অস্ত্র বহনকারীর তকমা। অথচ সাধারণ মানুষ বলছে, ক্রসফায়ারে নিহতদের বেশিরভাই ছিলেন নিরীহ মানুষ।

স্থানীয়রা বলছে, ‘রক্ত পিয়াসী’ বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কারান্তরিণ ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার খবরে টেকনাফ জুড়ে হাজারো নির্যাতিত পরিবারে আনন্দের বন্যা বইছে। স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মধ্যে। মেজর সিনহা হত্যা মামলায় ওসি প্রদীপ আসামি হয়ে কারাগারে যাওয়ায় শোকরানা নামাজ আদায় ও মিলাদ পড়িয়েছেন বলেও জানিয়েছেন অনেকে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার মাদক নির্মূলের পরিবর্তে বরং টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করেছেন। কিছু কিছু ক্ষুদ্র মাদক পাচারকারিকে ক্রসফায়ারে দিয়ে স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইয়াবা গডফাদারের। বিনিময়ে প্রদীপ পেয়েছেন কোটি কোটি টাকা। সরেজমিন নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই এসব অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

অর্থের বিনিময়ে অনেকের স্বার্থে কাজ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে প্রদীপ কুমারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে চালানো একটি অভিযানে চেয়ারম্যানকেই মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেন সাবেক ওসি প্রদীপ। অথচ মাদক নির্মূলে নুরুল হোসেনের ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল বলে দাবি তার পরিবার ও স্থানীয়দের। অভিযোগ উঠেছে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টেকনাফের দুবাই প্রবাসী ইসমাইল নামে একজনকে চেয়ারম্যান বানানোর কন্ট্রাক্ট নিয়ে প্রদীপ বর্তমান চেয়ারম্যানকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে নির্বাচনের আগেই ক্রসফায়ারে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে প্রদীপের বিরুদ্ধে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি, নির্যাতন ও লুটপাটের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে রয়েছে থানায় আটকে রেখে নারীদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগও।

সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গত বৃহস্পতিবার সাত দিনের জন্য র্যাব হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ওসি প্রদীপকে আটকের খবরে টেকনাফ থানার সামনে জড়ো হয় শত শত মানুষ। সেখানে উপস্থিত হন শতাধিক ভুক্তভোগী। তারা ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় ও ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা সবার সামনে বর্ণনা করেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মামলা করার কথাও জানান তারা।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, টেকনাফ হোয়াইক্যং এলাকার আনোয়ার নামের এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি প্রদীপ। টাকা দিতে না পারায় তিনদিন পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে তাকে হত্যা করা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে নিহতের মেয়ে এবং বোন কক্সবাজার আদালতে যান। খবর পেয়ে ওই দুই নারীকে তুলে নিয়ে যান ওসি প্রদীপের লোকজন। তাদের থানায় আটকে রেখে টানা নিপীড়নের পর ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি নিয়ে ফরিদুল মোস্তাফা নামে স্থানীয় একজন সাংবাদিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে ঢাকার বাসা থেকে ধরে নিয়ে এসে নির্মম নির্যাতনের পর অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে জেলে পাঠান ওসি প্রদীপ।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, টেকনাফ নাজিরপাড়ার নূর মোহাম্মদকে ধরে নিয়ে গিয়ে ৪৫ লাখ টাকা দাবি করেন ওসি প্রদীপ। নগদ ৩ লাখ টাকা, ব্যবহারের স্বর্ণালংকার নিয়ে নূর মোহাম্মদের স্ত্রী স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে থানায় যান। স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ওই গৃহবধূকে থানায় আটকে রেখে ওসি প্রদীপসহ কয়েকজন মিলে তার ওপর নির্যাতন চালায়। তিন দিন পর স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে গৃহবধূকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়। পরদিন তার স্বামীর গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। টেকনাফ থানায় আটকে নারীদের ধর্ষণের বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার দুবাই প্রবাসী এক ব্যক্তি। অভিযোগ উঠেছে, ওসি প্রদীপ পুলিশ পাঠিয়ে ইয়াবা উদ্ধারের নামে ওই প্রবাসীর বাড়িতে লুটপাট চালান এবং বাড়ি গুঁড়িয়ে দেন। একইভাবে ফেসবুকে লেখার কারণে আরেক প্রবাসীর পরিবার থেকে ২২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, প্রদীপের সমালোচনার করায় টেকনাফ সদরের নাজিরপাড়ার হতদরিদ্র কামালকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করা হয়। এখন ছেলেকে হত্যার প্রতিকার চাইতে তার মা আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর বলেন, ক্রসফায়ারের নামে মানুষ খুন করা ছিল ওসি প্রদীপের নেশা। ওসি প্রদীপের দালাল স্থানীয় শরিফ মেম্বার প্রকাশ শরিফ বলি ও ছৈয়দ মেম্বার। তাদের মাধ্যমে ঘুষের শতকোটি টাকা চট্টগ্রামে পাঠিয়েছে ওসি প্রদীপ।

অপরদিকে সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মামলা আদালত গ্রহণ করবে না বলে টেকনাফের গ্রামে গ্রামে প্রচার করে বেড়াচ্ছে তার ঘনিষ্ঠজনরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কক্সবাজার আইন কলেজের প্রভাষক ছৈয়দ মো. রেজাউল রহমান বলেন, হত্যার শিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের পরিবারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত সবারই মামলা করার সমান অধিকার রয়েছে। দেশে আইনের শাসন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের নির্ভয়ে থানায় বা আদালতে মামলা করা উচিত।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চাইলে আদালতে মামলা করতে পারেন। এছাড়া এ বিষয়ে আমাদের  কাছে কেউ অভিযোগ করলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo