কলকাতার নেটাজি সুভাষচন্দ্র বসু (দমদম) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত ১৩৬ বছর পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদ (বাঁকড়া মসজিদ)–এ নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা ও অস্থায়ী পাস ইস্যু স্থগিত করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শনিবার (১১ জুলাই) থেকে এই বিধি কার্যকর করেছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ তুলে ধরা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, মসজিদটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করায় রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং বড় বিমানগুলোর নিরাপদ অবতরণ-উড্ডয়ন লক্ষ্যে কাজগুলো আটকে আছে। প্রধান রানওয়ে মেরামতের সময় ছোট রানওয়েটি ব্যবহার করলে বড় উড়োজাহাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এই নিরাপত্তা ঝুঁকিই নিয়ন্ত্রণবিধি কড়াকড়ি করার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমানবন্দরের সুরক্ষা সবকিছুর উপরে থাকবে। তিনি বিমানবন্দরের ভৌগলিক সংবেদনশীলতাও উত্থাপন করেছেন এবং বলছেন, কাছেরেই অনির্দিষ্ট সীমান্ত এলাকা থাকার কারণে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
দমদম উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার দাবি করেছেন, বিমানবন্দর একটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও মসজিদে প্রতিদিন অনেকেই কোনো বায়োমেট্রিক বা পাসভিত্তিক ভেরিফিকেশন ছাড়াই আসা-যাওয়া করতেন, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও তোষণ রাজনীতির আড়ালে আগের সরকারগুলোর নীরবতা বদনাম করে বর্তমান পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন এবং জানিয়েছেন মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে যাতে বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে সচল রাখা যায়।
রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, পূর্বে ইচ্ছাকৃতভাবেই মসজিদকে রানওয়ে এলাকায় রাখা হয়েছিল। এই কথাগুলো বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। অন্যদিকে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, মসজিদটি ১৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে সশরীরে এখানে দাঁড়িয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং হঠাৎ করে নামাজ বন্ধ করে দেওয়া সমুচিত নয়—তারা একটি শালীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান চান।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পর থেকে বহু আশঙ্কা এড়াতে বিমানবন্দর এলাকায় বাড়তি পুলিশ ও নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় এবং আইনের মধ্যে থেকে সমাধান করা হবে; রানওয়ে উন্নয়নের কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনে মসজিদ স্থানান্তর করা হবে।
ঘটনাটি বর্তমানে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার সংমিশ্রণে জটিল এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কমিটির মধ্যে চলমান আলোচনা এবং ভবিষ্যতে মসজিদকে স্থায়ীভাবে কীভাবে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হবে—এ তথ্যগুলো নিয়েই পরবর্তী দিনগুলোতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।