ইতিহাস বারবার ফিরে আসে—এই বিশ্বাস যাঁদের আছে, তাঁদের কাছে আর্জেন্টিনাকে আবারও শিরোপা ধরে রাখতে হবে। ১৯ জুলাই নিউজার্সিতে ফাইনাল। কিন্তু তার আগে এক ধাপ এগোতেই হবে: বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জিততে হবে লিওনেল স্কালোনির দলকে। ম্যাচের আগে অনেকে ভাবছেন, আর্জেন্টিনা মাঠে কোন জার্সি পরে নামবে?
জার্সির রঙের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামীকাল। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিদের বৈঠকে ম্যাচসংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে—তাহার মধ্যে দুই দলের জার্সির রংও রয়েছে। সূত্র বলছে, আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম জার্সির বদলে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার অনুমতি চাইছে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তোন এদুল তার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরার অনুমতি চেয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমতি মেলেনি।
ভক্তদের মধ্যে নীল জার্সি নিয়ে কৌতূহল আর আলাপ-সমালোচনা দুইটাই চলছে। অনেক সমর্থক নীলকে ‘কুফা’ বলে দেখেন—কারণ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা যখন কিছু বড় ফাইনালে নীল জার্সি পরে হেরেছে। ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে নীল জার্সিতে তাদের হার ছিল—দুইবারই জার্মানির কাছে। অন্যদিকে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে আকাশি-সাদা জার্সিতে তারা জিতেছে; ওইগুলোতেই আলবিসেলেস্তেরা শিরোপা জিতেছিল (পরস্পর প্রতিপক্ষ: নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ফ্রান্স)।
কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়?
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী নকআউট পর্বের ড্র-এ ব্র্যাকেটের ওপরে থাকা দলকে ‘টিম এ’ ধরা হয়—এবার সেটিই ইংল্যান্ড। নিয়মতত্ তাঁরা নিজেদের মূল হোম কিট পরার অধিকারে থাকেন, ফলে যদি ইংল্যান্ড সাদা জার্সি বেছে নেয়, তাহলে আর্জেন্টিনাকে নীল পরতেই হতে পারে। কিন্তু ইংল্যান্ড চাইলে তাদের বিকল্প লাল জার্সিও ব্যবহার করতে পারে; সেক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা স্বাভাবিকভাবেই আকাশি-সাদা হোম জার্সি পরে খেলবে। ফিফার প্রধান উদ্দেশ্য হল মাঠে দুই দলের জার্সির মধ্যে পর্যাপ্ত দৃশ্যমান বৈপর্য্য রাখা, তাই লাল–আকাশি-সাদা বা সাদা–নীল—উভয় বিকল্পেই শর্ত পূরণ হয়।
এই টুর্নামেন্টে জার্সির ব্যবহার কেমন ছিল?
এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড মোট ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই সাদা জার্সি ব্যবহার করেছে; একমাত্র পানামার বিরুদ্ধে লাল জার্সি ব্যবহার করেছিলেন তারা। আর আর্জেন্টিনা একবারই নীল জার্সি পরেছে—জর্ডানের বিপক্ষে, কারণ প্রতিপক্ষ সাদা জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল।
ইতিহাসের কিছু ঝলকও আছে: ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টারে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে খেলেছিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতেও আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে নীল জার্সি পরে হারিয়েছে (অতিরিক্ত সময়ে)। তবু নীল জার্সি পরেই আর্জেন্টিনার হারও আছে—২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে উৎখাত হয়েছিল তারা।
অতীতে আর্জেন্টিনা যতবার সেমিফাইনে খেলেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা ফাইনালে পৌঁছেছে—এবার এটি তাঁদের ষষ্ঠ সেমিফাইনাল। ফলে চলমান বাজে স্মৃতি কিংবা শুভসংকেত সব মিলিয়ে আজকের সিদ্ধান্তটি তাদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
আগামীকাল যে বৈঠকে জার্সি নিয়েও চূড়ান্ত হান্ডশেক হবে, তা ঠিক হলে মাঠে নামার সময় সমর্থকদের মনে যে উত্তেজনা—তাই বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকে আরও বাড়িয়ে দেবে। আর্জেন্টিনা কি ঐতিহ্য বজায় রেখে আকাশি-সাদা পরবে, নাকি নীল ঝোলানো হবে—সেই চূড়ান্ত উত্তর মিলবে বৈঠকের পরে। আর প্রত্যাশার জোয়ারে একটাই প্রশ্ন: আর্জেন্টিনা কি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে? সেটা সময়ই বলবে।