পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভার নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল এনেছে। দল বলছে, এই ধাঁচের পরিবর্তন মূলত পরিষদীয় দলকে শক্ত করে আরও সংগঠিত ও আক্রমণাত্মক বিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য নেওয়া হয়েছে।
দলের সূত্র এবং কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিধানসভায় সুচিন্তিত মর্যাদা ও কৌশলে লড়াই চালাতে অভিজ্ঞ নেতাদের উপর নজর রাখা হয়েছে। সেই কারণে বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদে নাম ঘোষণা করা হয়েছে দলীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। বিরোধী ডেপুটি লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অসীমা পাত্র ও নয়না চট্টোপাধ্যায়কে। বিধানসভার চিফ হুইপের দায়িত্ব সামলাবেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
এছাড়া সরকারি কর্মচারী সংক্রান্ত কিছু বদলি-ক্রমও করা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েককে দার্জিলিং জেলায় বদলি করে বিজনবাড়ি অঞ্চলের পাল বাজার বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে। তিনি আগে মুখ্যমন্ত্রী দফতরের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে কর্মরত ছিলেন।
গত ৪ মে ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ থেকে এবার বিরোধী দলের ভূমিকায় নেমেছে। দল সূত্রে বলা হচ্ছে, নতুন রদবদলের মাধ্যমে তারা দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠন করে পরবর্তী রাজনৈতিক লড়াইকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করছে।