বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ে নতুন এক মাইলফলক রচিত হলো—তাসকিন আহমেদ ৫০ উইকেটের সংখ্যা স্পর্শ করে দেশের তৃতীয় পেসার হিসেবে নাম লিখালেন। এই কীর্তি এসেছিল ১৭ বছরের অপেক্ষার পর, যখন ২০০৯ সালে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শাহাদাত হোসেন একই স্তরে পৌঁছেছিলেন।
ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তাসকিনকে দেখে ছিল স্পষ্টভাবে অনაფট্ট দেখা; রান-আপে ক্লান্তি ও গতিতে স্বল্পতা নজরে এসেছিল এবং তিনি একটি তেমন ধারহীন স্পেল করেন। তবে পরের দিন সকালে পুরো চিত্র বদলে গেল—পরিকল্পনা, ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে নীরব কিন্তু কার্যকর বোলিং করলেন তিনি। সরাসরি আউট করলেন জোড়া উইকেট, আর নো-বলের কারণে যদি না বসত, আরও একটি উইকেটও উঠতে পারত।
বর্তমান সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের মানে ৫০ উইকেট বড় কিছু নাও মনে হতে পারে, তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে মাত্র তিনজন পেসার এই সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তাসকিন এ তালিকার তৃতীয় সদস্য। তিনি এটি করেছেন মাত্র ১৮ টেস্টে—যেখানে মাশরাফি করতে নিয়েছিলেন ১৯টি, আর শাহাদাত পেয়েছিলেন ২১টি টেস্ট। মাশরাফি ক্যারিয়ারে শেষ করেছেন ৭৮ উইকেট নিয়ে, আর শাহাদাতের সংগ্রহ ৭২ উইকেট।
এখন প্রশ্ন উঠছে—তাসকিন কি ১০০ উইকেটের ঠিকানা ছোঁাতে পারবেন? বয়স এখন ৩১; রাস্তা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ধারাবাহিকতা, সুস্থতা ও সুযোগ থাকলে তিনি আরও বড় অর্জন করতে পারেন—আর বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যতেও এই মাইলফলক যোগ করেছে একরকম সমর্থন ও আশা।