সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশে নৌ ও নৌযান ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সব দপ্তর ও সংস্থা থাকলেও অসঙ্গতিসম্পন্ন সমন্বয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা যাচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, নৌমন্ত্রীত্বের অধীনে প্রায় ১৬টি সংস্থা রয়েছে, যেখানে একটি মাত্র যাত্রী সেবার জন্য এতগুলো সংস্থা কাজ করছে, যা অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দেখা যায় না। তবুও, ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ এবং অপূর্ণতার বিষয় রয়ে গেছে। শুক্রবার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২৬’ আয়োজনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌমন্ত্রী বলেন, দেশের শ্রমিক, নাবিক, মালিক, এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে এইসব সমস্যা দূর করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, সেনাবাহিনী দেশের সুরক্ষা দেয়, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনৈতিক গতি চালিয়ে যান। শ্রমিকরা আল্লাহর দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ উপহার; তাদের মত শক্তি ব্যতীত কোনো জাতি সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে না। দেশের অর্থনীতি এখনও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমের উপর নির্ভরশীল। গার্মেন্ট শ্রমিক, বিদেশে কর্মরত প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও শ্রমিকরা নিবেদিতভাবে কাজ করে চলেছেন।
নৌপথকে বাংলাদেশের এক অপার সৌন্দর্য ও সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যা সত্যিই এক ধরনের বড় উপহার। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিনি। বর্তমানে আড়াই হাজার কিলোমিটার নৌপথ সচল রয়েছে, এবং আরও এক হাজার দুইশ কিলোমিটারে ড্রেজিং কাজ চলমান। এই পরিমাণে আরও চার হাজার পাঁচশ কিলোমিটার নৌপথ সচল করার সুযোগ রয়েছে।
বলেন, দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে আমরা ২৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের মহাসড়ক তৈরি করতে পেরেছি, অথচ প্রকৃতপক্ষে আমাদের রয়েছে বিস্তীর্ণ নৌপথ যা দেশের জন্য এক বিরাট অফার। যদি এই সম্পদকে রাষ্ট্রবান্ধবভাবে ব্যবহার করা যেত, তবে এটি দেশের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হিসেবেই পরিচিত হতো।
নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, রমজান মাসে যেমন আত্মশুদ্ধির জন্য কার্যক্রম নেওয়া হয়, তেমনি এ ধরনের সপ্তাহ উদযাপন সাধারণ মানুষের দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা দেয়। কর্মক্ষেত্রের চাপ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক সময় মানুষ দায়িত্বহীন হয়ে পড়ে। এই আয়োজন সেই সমস্যা কাটিয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।
নৌমন্ত্রী আরো বলেন, নিরাপদ নৌযাত্রা দীর্ঘদিনের দাবি, যদিও পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে, তবে সরকার এই ব্যবস্থাকে শতভাগ নিরাপদ করার জন্য স্বপ্রণোদিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই,如果 সবাই দায়িত্বশীল হলে এবং সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা গেলে, দেশের নৌখাতের চেহারা দ্রুত বদলে যাবে।
সদরঘাটে ঈদযাত্রার ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি জানান, আগের চেয়ে এবার পরিস্থিতি অনেক উন্নত হলেও, আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক এই উন্নয়নে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের নৌপরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এছাড়া, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিভিন্ন নিরাপদ নৌযাত্রার ব্যবস্থা ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। গত ঈদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে এবার আরও সতর্ক হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন নৌমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী, এবং চীফ ইঞ্জিনিয়ার এন্ড শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।