1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
অনুমতি ছাড়া হজ পালনে জরিমানা: ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় জামিনে মুক্তি পেলেন তাসনিম আফরোজ ‘ইমি’ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: দীপু মনির, বাবু ও রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন প্রসিকিউশন চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত, শিশুর চোখে গুলি ঈদুল আজহায় ৭ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা অবৈধ হজে গেলে জরিমানা ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে ইমির কারামুক্তি ৭ জুন বাজেট অধিবেশন: সংসদে পেশ হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য ২৫ মে থেকে ৩১ মে টানা সাত দিন সরকারি ছুটি রেললাইনের ঘেঁষে কোরবানির হাট বসানো যাবে না: রেল মন্ত্রণালয়

সংস্কার নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে; সনদ বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচনের আগে যারা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে দেখানো হচ্ছে সরকার আসলে কর্তৃত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে চলেছে। ৩ মে রোববার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনের সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। পাশাপাশি আলোচনায় অংশ নেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী ও সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান। হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর থেকে আমি বলেছিলাম, এটি এক ধরনের প্রতারণার সংসদ। কেন আমি এই সংসদে এসেছিলাম এবং কী পেলাম? সরকার যখন আইন করে ক্ষমতা বাড়ানোর অধ্যাদেশগুলো বিলুপ্ত করে আইনগত রূপ দিচ্ছে, তখন মুক্তিপ্রাপ্ত মূল দাবি ও জবাবদিহির বিষয়গুলো লুকানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় ভোটচুরি ও স্থানীয় প্রতিনিধি অপসারণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা এখন সরকারের পক্ষ থেকে আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা এখন খুব সহজে পাওয়া যাবে। বিরোধীদলের কাউকে অপছন্দ হলে তারা সরিয়ে দিতে পারবে পছন্দের প্রশাসক বসানোর জন্য। এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। বরং তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পুলিশ কমিশন তৈরি, সংবিধান সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। কিন্তু ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে গিয়ে এটি সবই আর সম্ভব হলো না; বরং তাদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ঘটছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে যে সংস্কারের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল, তার অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়নি। ২৪ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পরের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দেয়, ক্ষমতাসীন দলগুলো আসলে সংস্কার করতে চায় না, বরং তারা পুরনো ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। বাংলাদেশের এলিট বুরোক্রেসি, সিভিল ও মিলিটারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, ফলে বরং সংস্কার বাধা পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সম্প্রতি সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দিলারা বলছেন, কানাডায় যদি এক মন্ত্রী এরকম মিথ্যা কথা বলতেন, তাহলে সেদিনই পদত্যাগ করতে হতো। সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা, যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও শাসন বিভাগে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা। সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির প্রথমে ঘোষিত র‌্যাডিকেল কিছু প্রস্তাব ছিল, যেমন একজন ব্যক্তিই এক সঙ্গে সরকারের প্রধান ও দলের প্রধান হতে পারবে না, কিন্তু বিএনপির চাপের কারণে তা পরিবর্তিত হয়। এখন বাস্তবায়নে সমস্যায় পড়েছে, বলছেন তিনি। সারোয়ার তুষার জানান, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। তারা প্রত্যাখ্যান করছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগ, বিশেষ করে সংবিধান ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবগুলো। তিনি আরও বলেন, দলীয় ও নির্বাচনী ইশতেহারে যে সংস্কারসমূহের কথা বলা হয়েছে, তা কার্যকর করতে তারা অসমর্থ। মূলত, তারা সংবিধানেও দলীয়করণ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে, সংস্কার এড়িয়ে যাচ্ছে। তারা নোট অব ডিসেন্ট তুলে ধরে নিজেদের ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ রেখেও মূল ব্যাপারগুলোতে একমত নয়। গণভোটের পরে তাদের অবস্থান স্পষ্ট, এখন বড় বিষয় তারা কি করবেন। তারা চারটি প্রশ্নে আপত্তি জানালেও মূল বিষয়গুলো ছিল উচ্চকক্ষের নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো সংবিধানসম্মতভাবে নিরপেক্ষ করে তোলা। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তারা এসব বিষয়েও অঙীকার ভঙ্গ করছে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত দ্রুত সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo