আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ৭ দিনের দীর্ঘ ছুটির অনুমোদন দিয়েছে। এই ছুটির মধ্যে ঈদের দিনসহ পুরো সপ্তাহে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেড়াতে যেতে পারবেন। তবে ঈদের আগে অর্থাৎ ২৩ ও ২৪ মে যথারীতি অফিস খোলা থাকবে। এই সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তির মধ্যে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকবে। তবে এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনিবার ও রবিবার) সরকারি দপ্তরগুলো স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।
অপরদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এই নীতির উদ্যোগে মাঠে কাজ করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো পাবলিক টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। দেশের সকল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন পাবলিক টয়লেট সুবিধার ব্যবস্থা করে জনস্বাস্থ্য উন্নত করা, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন প্রক্রিয়া গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতেও নীতিমালা বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপডেটের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করবে। পাশাপাশি, উন্নয়ন প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। সব ধরনের টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণে সেফটি ট্যাংক নির্মাণের বাধ্যবাধকতা থাকবে, যাতে কোনোভাবেই বর্জ্য নদী, খাল বা জলাশয়ে ফেলে পানি দূষণ না ঘটে।
জনসচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আলাদভাবে কাজ করবে। সড়ক ও মহাসড়ক এলাকায় সড়ক পরিবহণ বিভাগ ও স্থানীয় الحكومة সমন্বিতভাবে নারীর এবং পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেবে। এই সব প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়নে সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো উদ্যোগ নেবে।
সব কিছু বিবেচনায় এনে এই নীতিমালার খসড়া সরকারের অনুমোদন লাভ করেছে, এবং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।