মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের আশায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক কাঁচা তেল বাজারে তীব্র পতন দেখা গেছে। ইরান ঘোষণা দিয়েছে, লেবাননকে কেন্দ্র করে যে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হয়েছে তার সময়কালে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে—এই খবরে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং তেলের দাম পড়ে যায়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণার প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার (প্রায় ১২.৯৫%) কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ১৩.৫০ ডলার (১৪.২৬%) কমে ৮১.১৯ ডলারে পৌঁছায়। উভয় সূচকই মার্চের পর থেকে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে চলে আসে এবং এটি এপ্রিলের সবচেয়ে বড় দৈনিক পতন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, লেবানন সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণাই দ্রুত আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ উদ্বেগ কমিয়েছে। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেছেন, যদি যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে তবে বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে, তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে যে হরমুজ দিয়ে ট্যাংকার চলাচল কতটা বৃদ্ধি পাবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হচ্ছে, যা সামরিক সংঘর্ষটি শেষ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন (বা মন্তব্য করেছেন) যে ইরান ভবিষ্যতে প্রণালী বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী সীমাবদ্ধতা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে সব ঝুঁকি দূর হয়নি। একটি আমেরিকান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক অবরোধ এখনও পুরোপুরি উঠে যায়নি। বিশ্লেষকদের সতর্কবাণী—হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা কার্যকরভাবে সরবরাহ বৃদ্ধিতে রূপ নিলে বাজার স্থির হবে, কিন্তু ইউরোপীয় বাজারে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পণ্যের সরাসরি পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো রাজনৈতিক ব্যাপারে চূড়ান্ত সমাধান না হলে পুনরায় অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
সংক্ষেপে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার ঘোষণায় বাজারে স্বস্তি ছড়ালেও পরিস্থিতি সন্তোষজনকভাবে স্থিতিশীল বলার জন্য এখনও অনেক অজানা রয়ে গেছে—তাই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।