স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আল্টিমেটাম দেওয়ার জায়গা রাজপথ — সংসদ নয়। তিনি সংসদে জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলেন, উত্থাপিত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং এখানে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এসব কথা জানান স্পিকার।
পটভূমি হিসেবে জানা যায়, ভোলায় জামায়াতের নারী কর্মী বিবি সাওদা (সাওদা সুমি) গ্রেফতারে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম নিন্দা জানান। তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে মামলাটি প্রত্যাহার করে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
এর আগে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ঘটনাটিকে নব্য ফ্যাসিবাদের লক্ষণ আখ্যা দিয়ে বলেন, সাওদা সুমির সঙ্গে করা নিকৃষ্ট আচরণ ‘‘নব্য ফ্যাসিবাদের বার্তা’’ বহন করছে। তিনি লেখেন, ফ্যাসিবাদীরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে প্রতিবাদী জনগণের কণ্ঠ নিষ্ঠুরভাবে স্তব্ধ করতে চায়, ফলে তাদেরই কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘জানি না, অন্তরে যারা ফ্যাসিবাদ লালন করে, তারা অতীত থেকে শিক্ষা নেবে কী না। লজ্জা, লজ্জা!’’
ঘটনাচক্র অনুযায়ী, রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে নিজ বাসা থেকে পুলিশ বিবি সাওদাকে গ্রেফতার করে। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে ‘‘অমানবিক ও অনভিপ্রেত’’ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মওয়াজ্জম হোসাইন হেলাল থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিবি সাওদাকে তার বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ’’ থাকার কথা বলেন; কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর রাতে কোনো নারীকে নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই গ্রেফতারে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং এই কর্মটিকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংসদে স্পিকার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।