প্রায় দেড় মাসের ছুটি শেষে দেশে ফিরে রোববার থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। উপস্থিতির প্রথম দিনেই তিনি জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্পে খোঁজখবর নেন এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ সমাধা করেন।
দুপুরে নানা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় বুলবুল সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না, তবে খুব চেষ্টা করেছি দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলবার — দিনশেষে আমিও একজন ক্রিকেটার।
তদন্ত কমিটির আলোচনা সম্পর্কে তার কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই বলে বুলবুল জানান; তিনি মূলত পত্রিকা থেকেই বিষয়গুলো জেনে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারী সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, অনুসন্ধান তো সরকারই করতে পারে এবং আমরা তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করছি।
বুলবুল আরও জানান যে স্কোয়াড নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচক ও কর্মকর্তাদের উপর এবং তাদের প্রস্তুতিই ছিল মূল। তবু শেষ পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়েছে।
বর্তমানে তাঁর সামনে বেশ কিছু জটিল ইস্যু রয়েছে। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এখন স্থবির — এটি দ্রুত চালু করা নতুন সভাপতির বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত বিশেষ কমিটি বিসিবি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত করলেও বুলবুলকে সেই কমিটির সামনে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। সংসদীয় কমিটিতে দুই জন পরিচালক—ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন—এর পদত্যাগ বোর্ডের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বহিরাগতভাবে সংকট মণ্ডিত পরিস্থিতি মনে হলেও বুলবুল এটাকে খুব আনকোংজার্নিংভাবে দেখেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই চলছে। জাতীয় দল খেলছে, মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে—সব কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে।’’
শেষে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এটি একটি নির্বাচিত কমিটি এবং সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড কাজ করছে; এমন প্রশ্নগুলোর প্রত্যাশা তারা করে না।