পদ্মা নদীতে এক যাত্রীবাহী বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় পুরো দেশ শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি ও মরদেহ উদ্ধারের করুণ দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার ছবি অনেকের টাইমলাইনে চোখে পড়ে; এতে ক্রিকেটাররাও শোকপ্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন তারকা ক্রিকেটার—সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহানসহ—এই দুর্ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তামিম তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌহার্দ্য পরিবহনের ডুবে যাওয়া বাসটির এক ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রাখছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দান করুন।’
সাকিবও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য দোয়া করেছেন। নুরুল হাসান সোহান লিখেছেন, ফেরিঘাটে আজকের ঘটনাটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়—তিনি বলেছেন, ‘‘এই পথে আমিও চলাচল করি; আজ হয়তো আমি সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।’’
লিটন ও রুবেলও দেশের মধ্যে চলমান দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। লিটন লিখেছেন, ‘‘দেশজুড়ে দুঃখজনক দুর্ঘটনার খবর দেখে হৃদয় ভারাক্রান্ত—এত প্রাণহানি ও কষ্ট সত্যিই হৃদয়বিদারক।’’ রুবেল প্রশ্ন তুলেছেন কেন আমাদের দেশে ঈদের সময় দুর্ঘটনার ছায়া যেন বাড়ে—এটি কি অসচেতনতা, না অন্য কিছু?
প্রাথমিক জানা অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যায়। অনেকে ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নামায় বেঁচে যান; কেউ কেউ সাঁতরে তীরে ওঠেছেন, আবার অনেক যাত্রী তাদের স্বজনকে হারিয়েছেন।
পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলটি ঘটনাস্থলে ঢুকে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত আছে।
দেশজুড়ে মানুষ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন; একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধায়ক সংস্থাগুলোকে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তৎপর হওয়ার দাবি তুলছেন অনেকেই।