চলমান সংঘর্ষের অবসান সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধ কখন ও কীভাবে শেষ হবে তা তারা নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। বিষয়টি বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি রাজনৈতিক–নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জোর দিয়েছেন যে ইরান কাউকেই — এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও — যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণের সুযোগ দেবে না। তিনি বলেছেন, ইরান যখনই সিদ্ধান্ত নেবে এবং তার নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হবে তখনই যুদ্ধ শেষ করবে; দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শত্রুর ওপর ‘‘চরম আঘাত’’ চালিয়ে প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে।
তারা বলেছে যে ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা চেষ্টা করছে, কিন্তু তেহরানের মতে এসব প্রস্তাব ‘‘অযৌক্তিক’’ এবং আমেরিকার যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের বাস্তবতা লুকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা মাত্র। তিনি উল্লেখ করেন যে ২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত আলোচনাকেও ইরান মার্কিন প্রতারণা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বুধবারের প্রস্তাবটি একটি বন্ধুপ্রতীম আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে এসেছে; তেহরান সেটিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখছে এবং নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, আগামীতে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তাদের সব দাবি রেখে এসব শর্তের আলোচনায় সেই শর্তসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না।
ইরানের যুদ্ধবিরতি শর্তগুলো হলো:
1) শত্রুপক্ষকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণভাবে আক্রমণ ও গুপ্তহত্যা বন্ধ করতে হবে।
2) ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পুনরায় যুদ্ধের মুখে ফেলবে না তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
3) যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
4) সর্বঅঞ্চলে ও লড়াইয়ের সব ফ্রন্টে লড়াইয়ে যুক্ত থাকা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করতে হবে।
5) হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে স্বাভাবিক ও আইনসম্মত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে; এটি অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তেহরানের সব দাবি এসব শর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। তিনি পুনরায় বলে দিয়েছেন যে শর্তগুলো মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো প্রাথমিক আলোচনা হবে না — ইরান যখনই সিদ্ধান্ত নেবে তখনই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে, কেউ এবং কখন চাইবে তা নয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, পারোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময়ে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এই উসকানিমূলক ও অবৈধ সহিংসতা শুরু হয়। জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: প্রেস টিভি।