1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
৮ উপদেষ্টার দফতর বণ্টন: কে পেলেন কোন দায়িত্ব গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা, ডাক্তারদের পেছনে না ঘুরে ডাক্তাররা মানুষকে ঘুরাবেন রাতে কিশোরদের রাস্তায় অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে ২ নিহত নোয়াখালীতে তেলবাহী ট্রাক দোকানে ঢুকে দুই নিহত তিন বিভাগে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার গাইবান্ধায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ২ জনগণের ট্যাক্সে চলি, জবাবদিহিতা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

খুলনা অঞ্চলে কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

খুলনা অঞ্চলের ইজারা নেওয়া এবং বেসরকারি পাটকলগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম এখন বন্ধের মুখে। এর কারণ হলো কাঁচা পাটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে শুরু করেছে, যা আচ্ছন্ন করে দিয়েছে চাষীদের ও উদ্যোক্তাদের। উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে গেছে, যার ফলে অনেক মিলই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সংকটের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি মিলগুলো আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দৌলতপুরের দৌলতপুর জুট মিলসহ বেশ কিছু মিল প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ রেখেছে। শ্রমিকরা প্রতিদিন মিলে এসে সময় কাটাচ্ছেন কিন্তু কোনো কার্যক্রম চলছেনা। একদিকে পাটের সংকট, অন্যদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। অসংখ্য শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দৌলতপুরের এই জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন, “প্রায় দেড় মাস ধরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছি, কিন্তু এখন কিছুই হচ্ছে না। কাঁচা পাটের অভাবে মিল চালানো সম্ভব নয়, কেউ যদি অন্য কোনও কাজ খুঁজে নিতে হয়, তাহলে কীভাবে সংসার চালাবো?” অন্য শ্রমিক হাবিবুল্লাহ জানান, “মালিক আমরা থেকে প্রতিদিন ২ টাকা লাভ করে হলেও শ্রমিক হিসেবে আমাদের পেছনে টাকা দেওয়া হয়; গত তিন বছর ধরে মিলটি সুসম্পন্ন ছিল, কিন্তু এখন সবাই বসে আছি। যদি সরকারের উদ্যোগ না হয়, তাহলে এই সংকট আর কতদিন চলবে?”

মিল মালিকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে কাঁচা পাটের দাম ছিল পরিবহন ও সংগ্রহে সাধারণত ৩,২০০ টাকায় মণ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫,২০০ টাকায়। এর ফলে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়ে গেছে। তবে বাজারে পণ্য বিক্রির মূল্য এই দামে ওঠে নি। আর এই পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

উৎপাদন কর্মকর্তা মোঃ ইসরাফিল মলিক বলছেন, “অতিরিক্ত দামে পাট কিনে উৎপাদন চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগে আমরা ৩,২০০ টাকায় পাট কিনে এক বস্তা বিক্রি করতাম ৮০ টাকায়, এখন দরে ৪,০০০ টাকা হলেও লাভের দেখা নেই। বিপৎসঙ্কের মধ্যে মিল চালাতে বাধ্য হয়েছিলাম, কিন্তু এখন দরকারি সরবরাহের অভাবে উৎপাদন বন্ধ করে রাখতে হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “কাঁচা পাটের artificially সংকট তৈরি করা হয়েছে, যা আসলে অপ্রচুর নয়। গত দুই বছরে বিভাগীয় পর্যায়ে পাটের উৎপাদন কমেনি, বরং কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। সরকার যদি টহল না দেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।”

অর্থনৈতিক ও কৃষি বিভাগ বলছে, গত দুই বছরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও नড়াইলসহ বিভিন্ন জেলায় কাঁচা পাটের উৎপাদন মোটামুটি একই রেখেছে। কৃষি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৯,৩৩৪ হেক্টরে ৯৪,৬৬৬ টন এবং ২০২৫-২৬ সালে ৩৮,২৬৮ হেক্টরে ৯১,১৩৫ টন কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়েছে। এই তথ্যগুলো বিবেচনায় নেওয়া হলেও, মিল মালিকরা অভিযোগ করছেন যে কিছু সিন্ডিকেট চক্র অপ্রকাশিতভাবে পাট মজুত করে দাম বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ জুট মিল এ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ জহির উদ্দিন বলেন, “বাজারে কাঁচা পাটের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানো জরুরি। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত করছে পাট, যা বাজার অস্থির করে দিয়েছে। সরকারকে উদ্যোগ নিয়ে এই অসাধু কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। ব্যাংকের ঋণও পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না, সবকিছুর সমাধান দ্রুত দরকার।”

পাট অধিদফতর বলছে, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের তত্ত্বাবধান চলছে। খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরজিত সরকার বলেন, “একজন আড়তদার বা ডিলার সর্বোচ্চ এক মাসে ৫০০ মণ পাট মজুত করতে পারবেন এবং এ নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি, দ্রুত বাজারের অবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।”

খুলনা অঞ্চলের মোট ২০টি ইজারা ও বেসরকারি পাটকলের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদিত হয়, এর একটি বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি হয়। তবে, চলমান সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদন ও রপ্তানিসহ খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo