ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাতে তারা আস্থা রাখতে চান। সোমবার ঢাকার পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘গোলামীর চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানান।
সেই সঙ্গে তিনি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। ঢাকা উত্তরের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আতিকুর রহমান মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেন, যিনি এই সরকারের ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। দক্ষিণে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি শেখ ফজলুল করীম মারুফের নাম ঘোষণা করেন, যিনি দলের প্রচার সম্পাদক।
রেজাউল করীম সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও নির্বাচনপ্রথম বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতো; কিন্তু আইন পরিবর্তনের কারণে আগামী নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে হবে, ফলে দলগুলো সরাসরি প্রতীকে প্রার্থী দেবে না। তবুও অনেক দল নির্বাচনের বিস্তারিত সূচির আগে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে যাচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি ছাত্র উইং গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও তাদের মধ্যে বিষয়গুলোর বন্টন সম্পর্কে জামায়াত একক সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন বৈঠক, ইসলামী বিধান অনুযায়ী দেশের পরিচালনায় অঙ্গীকার না করা এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের সামনে ইসলামী আন্দোলনকে ‘উগ্রবাদী’ বলে আখ্যা দেয়ায় সমঝোতা ভেঙে যায়। তিনি যোগ করেন, পরবর্তীতে নানা প্রচেষ্টা থাকলেও সমঝোতা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
রেজাউল করীম আরও জানান, তিনি এমপি বা মন্ত্রিত্বের জন্য রাজনীতি করেন না এবং ইসলাম, দেশ, জাতি ও মানবতার পক্ষে অটল থাকবেন। ভবিষ্যতে এই নীতির ভিত্তিতে কারো সঙ্গে জোট হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, যে আচরণ সম্প্রতি সেখানে দেখা যাচ্ছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারে না; বিজেপির কর্মকাণ্ড ধর্মনিরপেক্ষতা ভঙ্গ করছে এবং ভারতকে এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি অন্যান্য সমসাময়িক বিষয়েও মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, একই দিন তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য কিছু মুসলিম প্রধান দেশ ঈদের তারিখ ঘোষণা করেছিল।