চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি পুনরায় স্লো হয়ে এসে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকের ৩.৩৫ শতাংশ এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৪.৯৬ শতাংশের থেকে কম। এসব তথ্য সোমবার প্রকাশিত বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-র এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিবিএসের রিপোর্ট ও বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়া এবং সরবরাহে বিঘ্ন জনিত কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। দেশের ভেতরেও জ্বালানির সংকট ও সরবরাহ ঝামেলা দেখা দেয় ফলে শিল্পখাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অর্থসংকটের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল ও কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।
খাতে ভাগাভাগি অনুযায়ী গত অক্টোবর-ডিসেম্বরে শিল্প খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে — মাত্র ১.২৭ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি ৪.৪৫ শতাংশ। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে শিল্প খাতেই প্রবৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি — ৬.৮২ শতাংশ; এক প্রান্তিকের ব্যবধানে শিল্পখাতের এই বড় ধরনের কমতি সার্বিক প্রবৃদ্ধিকে আরও সীমিত করেছে।
গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ২.০৫ শতাংশ; চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা বেড়ে ৪.৯৬ শতাংশে উঠে আসে, কিন্তু দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবারও নিচে নেমে এসেছে। চূড়ান্তভাবে বছরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে — বিশেষত কারণ শিল্পখাতই জিডিপিতে বড় অবদান রাখে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি যখন ক্ষীণ হয় সার্বিক লক্ষ্যমাত্রার পথে বাধা তৈরি হয়।