যশোরে এক কর্মরত বিচারকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই মামলাটি করেন শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা শরিফুল আলম। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জনপ্রিয় আদালত বিভাগের একজন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, যার নাম রাশেদুর রহমান, তাঁকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এখন আদেশের অপেক্ষা করছে। পরিবেশটি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনি প্রতিনিধি এড. দেবাশীষ দাস।
এদিকে, মামলার বিষয়ে আদালত ছাড়ার সময় পুলিশ বাদী শরিফুল আলমকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, তিনি আগে থেকেই একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে আটক করা হয়। যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আইনবহির্হিত বেশ কিছু আদেশ দেওয়ার, আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যাবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগে গত ৪ মার্চ যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি আদালত বর্জনের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে ওই আদালত বন্ধ থাকায়, আইনজীবীরা অনুপস্থিত থাকতেন। সেই সময়ে বাদী শরিফুল আলমের একটি মামলার বিচার চলছিল। ৩০ মার্চ, যখন আইনজীবীরা কর্মবিরতিতে ছিলেন, তিনি সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়ে সময়ের আবেদন করেন।
অভিযোগে জানানো হয়, বিচারক রাশেদুর রহমান বাদীর আবেদন নামঞ্জুর করে একতরফাভাবে তাঁর বক্তব্য নেন এবং আইনবহির্ভূতভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই দিন ধার্য করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, একই সঙ্গে বিচারক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দায়িত্ব পালন না করে দুর্নীতি বিরোধী আইনের লঙ্ঘন করেছেন। বাদী এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করলেও কোনও বাস্তব ফল না পাওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ব্যবসার অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত ঋণের বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, যশোর শাখা তাঁর বিরুদ্ধে চেক ডাইজঅনারের মামলা করে। এই মামলাটি এখন বিচারাধীন। সম্প্রতি, এই মামলায় রায়ে বাদীকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। শরিফুল আলম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, পুলিশ তার অবস্থানে থেকে তাকে গ্রেফতার করে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যায়।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর বলেন, ‘ভুক্তভোগী শরিফুল আলম ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আদালত সেই মামলাটি বিচারাধীন রেখেছেন; আমরা আশাবাদী, যদি বিচারক এই মামলার আবেদন গ্রহণ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে যশোরের সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। যেখানে আদালতকে অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবে, ভুক্তভোগী এই মামলা করার পরই দলীয় বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় তিনি আদালত থেকে আটক হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাসুম খান বলেন, ‘আমার এ বিষয়ে এখনো কোনও জানানো হয়নি। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’