প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথমবারের মতো রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তারেক রহমান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। নেতাকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়ে তাকে স্বাগত জানাতে স্লোগানে স্লোগানে। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়; তখন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাতে বাহবা ও স্লোগান দেয়। এর কিছুক্ষণ পর, বিকেল ৬:৩০ টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য নেতারা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তিনি গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। শনিবার রাতে নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তারেক রহমান দেশের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে, এবং যেন সাধারণ মানুষের কষ্ট বা ভোগান্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরো আসব, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাচল ও পরিবহন বাধাগ্রস্ত হতে দাও না।’ তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এসে সাংগঠনিক কাজ করা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা সম্ভব হয়। ‘আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না থাকলে পারব না,’ যোগ করেন তিনি। নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য रखने আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য্য ধরে আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে ও মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, দেশে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, সেগুলো মানুষকে বোঝাতে হবে এবং তাদের ধৈর্য্য ধরাতে সহায়তা করতে হবে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি রাস্তা স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন, ‘আমাদের প্রথম কাজ হলো রাস্তা পরিষ্কার করা।’ একই সঙ্গে সতর্ক করেন যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে তাঁর পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে। বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর সময় নেতাকর্মীরা বেশ উৎসাহে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে মুখরিত করে তোলে গোটা এলাকা। দুপুর থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেলের সাড়ে ৪টার মধ্যে সড়ক পুরোপুরি ভরে যায় তাদের শ্লোগানে। সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার খবর পেয়ে, প্রোটেকশন টিমের সদস্য আরেক বার উদ্বেলিত হয়ে জানিয়ে দেন তিনি সেখানে গেছেন। তারেক রহমান কার্যালয়ে প্রবেশের পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দলের নেতাদের সঙ্গে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় ও চলমান কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। এ উপলক্ষে ভিড় দেখা যায় পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের কার্যালয় পর্যন্ত, যেখানে নেতাকর্মীরা হাতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে থাকেন। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়, যেমন ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা ও স্বাগত’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ ও তারেক রহমানের জন্য শুভেচ্ছা’। ওইদিন সকাল থেকে তারেক রহমানের আগমন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। যানজটের সৃষ্টি হয় পুরো নয়াপল্টন এলাকায়, যেখানে ট্রাফিক একলাইনে গাড়ি চলাচল করছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কঠোর, আইনশৃঙ্খলার বাহিনী বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশ আমাদের তাড়া করত, গ্রেফতার করত। কিন্তু আজকে এমনকি আল্লাহ চান, কী না হয়—সেটা দেখযোগ্য।’