কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পানিশোধনাগারের পরিষেবা ভবনে হামলা চালিয়েছে ইরান—এমন দাবি করেছে কুয়েতি কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় এক ভারতীয় কর্মী নিহত হয়েছেন এবং স্থাপনার একটি ভবন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
সোমবার কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, এটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের অংশ হিসাবে একটি বিচার্য হামলা। হামলার পরে দ্রুত টেকনিক্যাল ও জরুরি সাড়া সেবা কর্মীদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে কেন্দ্রটির কার্যক্রম জোড়ালোভাবে চালিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, বলেছে মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি। তবু একটি ইরানি রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কুয়েতি মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, পানিশোধনাগারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটটিও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কুয়েতের আকাশে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট ড্রোনগুলোর মধ্যে কয়েকটি একটি সামরিক শিবিরে আঘাত করলে সেখানে থাকা অন্তত ১০ জন সৈন্য আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-ইরান যাচাইযোগ্য উত্তাপ ও সংঘাতে জড়ানো অবস্থায় কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বারবার আঘাতের শিকার হয়েছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিভিন্ন হামলায় ইরানে দুই হাজারেরও বেশি মানবহানি ঘটেছে; তাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ও কমপক্ষে ২১৬ শিশু রয়েছেন, দাবি করা হচ্ছে।
ইরানি বাহিনীও পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়ে আসছে—বিশেষ করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সেসব এলাকায় হামলা বাড়িয়েছে। এসব ঘটনার ফলে ওই দেশগুলোতেও হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষতি ঘটেছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
বিশ্ব শক্তির এ সংঘাতের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কুয়েতের অবকাঠামোতে হওয়া এই আঘাত স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তা উভয়েরই নিরাপত্তা-উদ্বেগ তীব্র করছে, এবং এ অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে—উপর্যুক্ত সব ঘটনার মধ্যেই শান্তি বা সংকটশমনের কোনো নির্ভরযোগ্য লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।