স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্লোগান দেওয়ার অভিযুক্ত মডেল মোসাঃ সিমু আক্তার বৃষ্টি (ওরফে মিষ্টি সুবাস) ও রফিকুল ইসলাম (ওরফে দুর্জয়) নামে দুইজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।
ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তাজুল ইসলাম সোহাগ পুলিশের আবেদনের ওপর রফিকুল ইসলামের তিনদিন এবং মিষ্টি সুবাসের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুক্রবার (আদালতে উপস্থিতির দিন) ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের আটক করে। শুনানিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার এসআই মোঃ শহিদুজ্জামান পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আংশিক রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটাতে এবং ঘটনার স্থলে উপস্হিত থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি করতে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগসমূহ। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, মূল রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত অন্য অননুমোদিত বা অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও ইন্ধনদাতাদের নির্ধারণের জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ অপরিহার্য বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বেলা ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়ার নবীনগরের জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে প্রায় ২২-২৫ জন নেতা-কর্মী সমবেত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ ইত্যাদি শ্লোগান দেন। পরে আনুমানিক দেড়টার দিকে পুলিশের অভিযান করে ওই দুইজনকে আটক করা হয়।
আশুলিয়া থানায় আজ (শুক্রবার) এই ঘটনার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার দু’জনকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত ও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে যাতে মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সনাক্ত এবং ঘটনার পটভূমি পরিষ্কার করা যায়।