মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ ম্যাচে ভারতকে ১-১ করে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। দুই দলই গ্রুপ থেকে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে উঠলেও গোল ব্যবধানের ভিত্তিতে ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়; বাংলাদেশ রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা পায় এবং সেখানে ম্যাচ হবে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপালের বিপক্ষে।
ম্যাচটি ছিল শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ও দর্শকরা গ্যালারি ভূষিত রাখায় ফুটবল-আতশবের রমরমা ছিল। ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে ওঠা বল ভালো এক হেডে জালে জড়ান ভারতের বিশাল যাদব; সেই গোল বাংলাদেশের সমর্থকদের মুখে স্তব্ধতা ফেলে দেয়।
গতানুগতিক আক্রমণের ধারা ধরে রেখে ডান-বাঁ দিক ব্যবহার করে ফিরে আসার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে ৩৯ মিনিটে হঠাৎ বড় ধাক্কা লাগে—নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান চোট পান এবং স্ট্রেচারে করে মাঠ থেকে বাইরে নিতে হয়। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বাংলাদেশ সমতার গোল পায় চমৎকার এক আক্রমণ থেকে। রোনান সুলিভানের নিখরচায় কর্নার কিক থেকে বদলি হিসেবে নামা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে ঢুকিয়ে দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন এবং গ্যালারির কণ্ঠস্বরে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রথমার্ধের এই পর্যায়ে টাচলাইনের কাছে এক শক্ত ট্যাকলকে কেন্দ্র করে দুই দলের ডাগআউটে উত্তেজনা ছড়ায়। কড়া কথাবার্তা দ্রুত তর্কে এবং পরে হাতাহাতির আশঙ্কা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি ভারতের সাপোর্ট স্টাফ মহেশ গাউলিকে হলুদ কার্ড দেখান এবং বাংলাদেশের ইংলিশ হেড কোচ মার্ক কক্সকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন।
বিরতির পর বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুমনকে নামানো হয় বদলি হিসেবে। ৬৪ মিনিটে ভারতের ওমং দোদুমের সুযোগে দুর্দান্ত একটি শটকে থামান বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন—যা দলের জন্য বড় সেভ এবং কর্নার আদায় করে দেয়। এরপর ৬৮ মিনিটে ভারতের এক খেলোয়াড় বক্সের বাইরে ফাউল করলে হলুদ কার্ড পান।
শেষ দিকের কৌশল বদলে যাওয়ায় ম্যাচের গতিপথ জমে ওঠে—ভারত ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কারণে রক্ষণে বেশি মনোযোগ দেয়, আর বাংলাদেশ শীর্ষ স্থান দখলের লক্ষ্য নিয়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চেষ্টার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ফল ১-১ ড্র হিসেবে ধরা পড়ে।
এই ড্রয়ে বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে রানার্স-আপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে এবং আগামী ম্যাচে প্রতিপক্ষ হবে নেপাল। সার্বিকভাবে ম্যাচে আত্মত্যাগী পারফরম্যান্স ও দারুণ চাপ সামলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা বাংলাদেশের জন্য আশা ধরে রাখলো।