আইপিএলের সম্প্রচার নিয়ে দেশে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির জবাব দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, আগের সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ আছে। সকালে তথ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে যে সংবাদটি প্রকাশ হয়েছিল—যেখানে বলা হয়েছিল আইপিএল সম্প্রচারে বাধা নেই—বিকেলে মন্ত্রণালয় তা মেনে নেয়নি এবং আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদী বিবৃতি দিয়েছে।
শনিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তা মন্ত্রণালয়ের নিকট এসেছে এবং তা থেকে উদ্ভূত ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এই অবস্থান জানানো হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “আইপিএল প্রচার বন্ধের বিষয়ে বিগত সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিষয়টি সমাধানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামত ও পরামর্শ চেয়ে একটি পত্র প্রদান করেছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাজ করা হবে। ফলে আপাতত আইপিএল সম্প্রচারের সৌভাগ্য নির্ভর করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
এই বিবৃতিটি প্রকাশের আগে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এ পর্যন্ত আইপিএল সম্প্রচারের জন্য কোনো আবেদন আসে নি এবং তারা খেলাধুলাকে রাজনীতি করতে চায় না; তাই বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনে অনুমতি দেওয়া হবে। তিনি জানান, যদি কোনো চ্যানেল আইপিএল সম্প্রচারের জন্য আবেদন করে তারা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং ভারতীয় চ্যানেল স্টার স্পোর্টসের মাধ্যমে সম্প্রচার হলে সরকার বাধা দেবে না।
তথ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যে একটি মর্মে বোঝা গিয়েছিল যে আগের সরকারের নির্দেশনা আর কার্যকর নেই। তথ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “অন্তর্বতী সরকারের ওই নির্দেশনার এখন কোন দাম নেই। এই সরকার যদি আমাদের বন্ধ রাখতে বলে আমরা বন্ধ রাখব। আগের সরকারের ওই সব নির্দেশনা এখন আর বহাল নেই।” তবে মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে ঠিক উল্টো ইঙ্গিত মিলেছে—পুরনো সিদ্ধান্ত এখনও বহাল।
এভাবে মুখের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ও অফিসিয়াল দফতরের ঘোষণা একসাথে প্রকাশ হওয়ায় সাধারণ পাঠকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এই স্পষ্ট ব্যাখ্যার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে ইতিমধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া ও সুপারিশ অপেক্ষার মধ্যে রয়েছে।
সংক্ষেপে, আইপিএল সম্প্রচারের উপর চলমান নিষেধাজ্ঞা এখনো একই রকম বহাল আছে এবং বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের আগে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতামত নেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।