ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট শিল্প ও অবকাঠামোতে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।
আইআরজিসি–এর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত তাদের কর্মস্থল ছাড়ার অনুরোধ করা হয়েছে বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম প্রতিবেদনে জানিয়েছে। এমনকি ওই কারখানাগুলোর আশপাশের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসরত সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ভারী শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য লক্ষ্যস্থলকে টার্গেট করে প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইআরজিসি–এর অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়েদ মজিদ মুসাভি সামাজিক মাধ্যমে (এক্স) দেওয়া একটি পোস্টে কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘তোমরা আবারও আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছো। বিশ্ব দেখেছে, তোমরাই আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছ এবং অবকাঠামোর ওপর হামলা চালিয়েছ। এবার প্রতিক্রিয়া ‘চোখের বদলে চোখ’ থাকবে না—অপেক্ষা করো, সবাই দেখবে কী হয়।’’ তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত মানুষের দ্রুত নিরাপদ স্থান নিউজ্ব্যাগ করার পরামর্শও দিয়েছেন।
তবে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থা জানানোয় আরদাকান শহরের ওই পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েনি। সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মূলত ‘ইয়েলোকেক’ নামে পরিচিত ইউরেনিয়ামের ঘনীভূত গুঁড়া উৎপাদিত হতো—যা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
এই হামলা ও ইরানের পাল্টা হুমকির ফলে এক বিস্তৃত সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অঞ্চলীয় শক্তিগুলো এখন সতর্ক নজর রাখছে।