পদ্মা নদীতে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসডুবির ঘটনায় পুরো দেশ শোকস্তব্ধ। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আহাজারি, মরদেহ উদ্ধারের করুণ পরিবেশ এবং হতাহতদের ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে—সবকিছুই অনেকে নিজের টাইমলাইনে আদৌক প্রভাব ফেলেছে। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার ছবি বিশেষ করে নজরে এসেছে।
দেশের পরিচিত ক্রিকেটাররাও এই বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। তামিম ইকবাল গতকাল নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটির ডুবে যাওয়া ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক মানুষকে দোয়ায় রাখছি। আল্লাহ তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও আরোগ্য দান করুন।’’ পোস্টের ছবিতে কালো শোকের ছায়া স্পষ্ট দেখা গেছে এবং তিনি ২০২৬ সালের ২৫ মার্চের ঘটনাটিকেও স্মরণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
সাকিব আল হাসানও ফেসবুকে মর্মাহত হয়ে লিখেছেন, ‘‘গতকালকের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং শোকাহত পরিবারদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার হোক—এই কামনাই করছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।’’
নুরুল হাসান সোহানও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে বলেছেন, ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। ‘‘এই পথ দিয়েই আমিও চলাচল করি—আজ হয়তো আমিও সেখানে থাকতে পারতাম। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, আল্লাহ তাদের শোক সহ্য করার শক্তি দিন।’’
এদিকে লিটন দাস এবং রুবেলসহ আরও অনেকে দেশের সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। লিটন লিখেছেন, ‘‘দেশজুড়ে লাগাতার দুর্ঘটনার খবর দেখে গভীরভাবে মর্মাহত। এত মানুষের প্রাণহানি ও কষ্ট সত্যিই হৃদয়বিদারক।’’ রুবেল প্রশ্ন তুলেছেন—‘‘কেন আমাদের দেশে এত দুর্ঘটনা? ঈদে আনন্দের বদলে আঘাত কেন আবির্ভূত হয়?’’
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি গতকাল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের ফেরিতে ওঠার সময় ফেরির পল্টুন ছিঁড়ে নদীতে পড়লে এটি ডুবে যায়। অনেক যাত্রী ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে নেমে দাঁড়ানোর ফলে রক্ষা পেয়েছেন; কেউ কেউ সাঁতরে তীরে উঠেছেন। তবু অনেকে পরিবারের সদস্যকে হারিয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।
দেশব্যাপী শোক আর উদ্বেগের মাঝে পরিবারের কাছে দ্রুত ন্যায্য সহায়তা ও নিহতদের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ বিদায়ের দাবিও উঠছে। উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক ব্যক্তিত্ব।