পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে এবার এনওসি পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার। বিসিবি তাদের সবাইকে আগামী ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ওই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের অনাপত্তি দিয়েছে।
আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পিএসএলে বাঁ-হাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি দলে ভিড়িয়েছিল লাহোর কালান্দার্স। নিলামে রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা ও পারভেজ হোসেন ইমনকে ডাক পড়ে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে। সম্প্রতি পঞ্চম বাংলাদেশি হিসেবে শরিফুল ইসলামও প্রথমবারের মতো পিএসএলে সুযোগ পেয়েছেন।
বিসিবির একটি বিশ্বস্ত সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে, পাঁচজনকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এনওসি দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের হয়ে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এপ্রিলের শুরুর দিকের সিরিজ বিবেচনায় রেখে তাদের ছাড়পত্র কেবল ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মঞ্জুর করা হয়েছে। ফলে সবাইকে পাকিস্তান থেকে তার পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিমও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে জাতীয় দলকে অগ্রাধিকারই দেওয়া হবে — বিশেষ করে ওয়ানডে সিরিজে কোনো আপস হবে না। তবে যদি বিবেচনা করা হয় যে খেলোয়াড়টি সেখানে খেললে তার টি-টোয়েন্টি দক্ষতা বাড়বে এবং একই সময়ে তার বিকল্প আমাদের কাছে থাকলে ছাড় দেওয়া হবে।
শুরুর দিনেই মাঠে দেখা মিলতে পারে দুই বাংলাদেশিকে। ২৬ মার্চের উদ্বোধনী ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স নিজেদের প্রতিরক্ষায় নামাবে, যেখানে মুস্তাফিজ ও পারভেজ ইমন একই দলে থাকতে পারেন। অন্যদিকে ২৮ মার্চের ম্যাচে রিশাদ, নাহিদ ও শরিফুল খেলতে নামতে পারেন। ওই দিন নাহিদ ও শরিফুল পেশোয়ার জালমির জার্সিতে থাকলে তাদের বিপক্ষে থাকবে রিশাদের রাওয়ালপিন্ডির দল — ফলে জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলা সতীর্থদের একে অন্যের বিরুদ্ধে খেলতে দেখা যেতে পারে।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর বাংলাদেশ এখন সাধারণত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তেমন ব্যস্ত নয়, ফলে ক্রিকেটাররা এই সময়ে পিএসএলে অংশ নিতে পারছেন। তবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে জাতীয় দলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এভাবে পিএসএলে খেলায় যুক্ত হওয়া তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বিদেশি লিগে খেলা তাদের 개인 উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের জন্যও লাভজনক হতে পারে—তবে জাতীয় বাধ্যবাধকতায় মিল রেখে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।