জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’ আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। রবিবার (৮ মার্চ) সকাল/দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই ঘোষণাটি দেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
সংগঠনের নেতৃত্বে মনিরা শারমিন আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন নুসরাত তাবাসসুম। যদিও ডা. মাহমুদা মিতু শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি, অনুষ্ঠানে মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম অনুষ্ঠানে বলেন, ‘নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলোতে আলাদা একটি সংগঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। নারীশক্তি হবে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নারী নিজেদের ইস্যু নিয়ে ঘরে-বাইরে বললেই আস্থা ও সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি সামনে তুলে ধরতে পারবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন সংগঠনটি সাইবার বুলিংসহ নানা সামাজিক ইস্যুতে স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
নাহিদ আরও বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে নারীর অধিকার অর্জন সবসময়ই আন্দোলন ও সংগ্রামের ফল। বাংলাদেশে ভোটাধিকার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য নারীদের বারবার লড়াই করতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—সব আন্দোলনেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু একই সময়ে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সূচনালগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা আন্দোলনের গতিকে প্রভাবিত করেছিল।
নাহিদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রচুর নারী রাজপথে ছিলেন, কিন্তু পরে রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। এর পেছনে সামাজিক বাধ্যবাধকতা, পারিবারিক চাপ এবং অনলাইনে চলা মানহানিকর ট্রল ও সাইবার বুলিং বড় ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে অনেক নারী আন্দোলন ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও সাইবার বুলিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে — দলমত নির্বিশেষে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতারা জানান, অচিরেই ‘জাতীয় নারীশক্তি’র পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সারাদেশে এর সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রসারিত করা হবে। আত্মপ্রকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একই মিলনায়তনে ‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন নারী উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটি ভবিষ্যতে নারীর কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে রাজনীতিতে তুলতে কাজ করবে—এটাই অনুষ্ঠানে বারবার উচ্চারিত প্রতিশ্রুতি।