মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পিচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উঠেছে সমালোচনা। এখানকার ধীরগতি ও স্পিনপ্রবণ উইকেট নিয়ে কেবল সফরকারীরা নয়, জাতীয় দলে থেকেও বিভিন্ন সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটাররা। তবুও বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলের কোচই সিরিজ শুরুর আগে মিরপুর পিচকে আশাব্যঞ্জক বলে দেখছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের সব ম্যাচেই ভেন্যু মিরপুর। সিরিজ শুরুর আগে ৯ মার্চ অনুশীলনে এসে দুই দলের অধিনায়ক ও কোচরা পিচ দেখেন এবং তার পর সংবাদ সম্মেলনে তাদের মতামত দেন। আগের সমালোচনার তুলনায় এবারে দু’পক্ষেই আশাবাদই বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স সংবাদ সম্মেলন শুরু কেম্পেইনের মতো সাংবাদিকদের সালাম দিয়ে বলেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা সফল সিরিজের পর তারা ফিরে যেতে চান না। সেই সিরিজের তুলনায় এখনকার উইকেটগুলো অনেক ভালো মনে হচ্ছে বলে তিনি জানান। সিমন্স আরও বলেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে গত পারফরম্যান্সকে ধরে রাখা এবং ধারাবাহিক উন্নতি করা। বিশেষভাবে মিডল ওভারগুলোতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রয়োজন আছে; বিশেষ করে ওই ফেজে উইকেট নেওয়ার ওপর বেশি জোর দেওয়া হবে।
পিচ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে সিমন্স জানান, বিপিএলের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো দেখেছেন এবং উইকেটগুলো ভালো দেখছেন। ‘‘ক্রিকেটার হিসেবে আমরা ভালো উইকেটে খেলতে চাই—তাতে নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করা যায়। আমার ধারণা এখন উইকেট আগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে,’’ তিনি বলেন।
পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন অতীতের কঠোর সমালোচনার স্মৃতি তুলে ধরে এবার পিচের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পিচ ও আউটফিল্ড দু’টিই এখন ভালো দেখাচ্ছে; আগে দীর্ঘদিন ধরে এখানে ভালো কন্ডিশন ছিল না। বিপিএলের খেলা দেখে বোঝা যায় জায়গাটিতে উন্নতি ঘটেছে। কাদা কম, এখন পুরো ম্যাচটা ব্যাট-বলের মধ্যে সৎ লড়াই হবে—যা দুই দলের জন্যই সুবিধা হবে।
হেসন জানান, বাংলাদেশকে তাদের নিজ কন্ডিশনে সম্মান জানালেও বর্তমানে কন্ডিশন গত টি-টোয়েন্টি সিরিজের চেয়ে অনেক আলাদা। তখন বাউন্স অসমান ছিল এবং মাঠও বেশ সমতল ধরনের ছিল; এখন পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তিত। এছাড়া তিনি যোগ করেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি অনেক বেশি ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলেছে—তাই পাকিস্তান দলকে দ্রুত ওই ফরম্যাটে মানিয়ে নিতে হবে।
সংক্ষেপে, সিরিজ শুরুর আগের দেখা-পাওয়া ও মিডিয়ার প্রশ্নে দুই দলের কোচই মিরপুর পিচকে ইতিবাচক বলছেন। আশা করা হচ্ছে, এই কন্ডিশনে দর্শকরা সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে পাবেন এবং ক্রিকেটও হবে সত্যিকার ‘ব্যাট-বলের লড়াই’।