ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। একই সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে—এ তথ্য শনিবার রেজিস্ট্রার দফতর থেকে জারি করা পৃথক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিসংক্রান্ত শৃঙ্খলা বিধির ১৫(খ) ধারার প্রেক্ষিতে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন: উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার ও হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মামলার ৩ নম্বর আসামি শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ৪ নম্বর আসামি হাবিবুর রহমান। বরখাস্তকালের সময় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী জীবনধারণ ভাতা পাবেন।
তদন্ত কমিটিতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক গাজী আরিফুজ্জামান খান। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করার দাবি সহ পাঁচ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে আসমা সাদিয়া রুনার পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভাগের সমস্ত একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় চালু করা, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভাগের সকল আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা এবং আসমা সাদিয়া রুনার স্মৃতিকে স্মরণীয় করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে তার নামে নামকরণ করা।
আরেকটি অনুষ্টান হিসেবে আগামীকাল সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আসমা সাদিয়া রুনার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও কড়াকড়ি বজায় রাখা হবে বলে অফিস আদেশে বলা হয়েছে।