দেড় বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরলেন আফিফ হোসেন। একই সঙ্গে মিডল-অর্ডার শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় লিটন দাসকেও নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের হোম সিরিজের দলটিতে। বিসিবি বৃহস্পতিবার এই দল ঘোষণা করেছে; সিরিজ শুরু হবে ১১ মার্চ, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, এবং পরের দুই ম্যাচ হবে ১৩ ও ১৫ মার্চ।
আফিফ সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। তাঁর ৩৪ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে রান ৬৬৭ এবং গড় ২৭.৭৯। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর আফিফ সাম্প্রতিক বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে একটি সেঞ্চুরি করেছেন; ওই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ১২৮ রান। নির্বাচকরা মনে করেন তাকে নিয়ে মিডল-অর্ডারে অভিজ্ঞতা যোগ হবে। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “মিডল অর্ডারে আমরা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু কেউই জায়গা নিশ্চিত করার মতো ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারেনি। তাই আফিফকে আবার দলে আনা হয়েছে; সে দলে মূল্যবান অভিজ্ঞতা যোগ করবে।”
লিটন দাস গত বছর কলম্বো সিরিজের দলে ছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ওয়ানডে ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল—সর্বশেষ ছয় ওয়ানডেতে তিনি চারটিতে শূন্যে আউট হয়েছেন। তবু নির্বাচকরা লিটনের ওপর আস্থা রেখেছেন। গাজী আশরাফ বলেন, “লিটনের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তবে সে কোচদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সে আবার শিগগিরই এই ফরম্যাটে নিজের সেরাটা দিতে পারবে। মিডল অর্ডারকে আরও শক্তিশালী করতে তাকে বিবেচনা করা হয়েছে।”
ক্যারিয়ারে ৯৫ ওয়ানডে খেলা লিটন মূলত ওপেনিং ও তিন নম্বরে খেলেছেন; ওপেনিং বা তিন নম্বরে খেলেই তিনি বেশি সময় ব্যাটিং করেছেন এবং কখনোই পাঁচের নিচে ব্যাট করেননি। সম্প্রতি বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে তিনি তিন ও চার নম্বরে ব্যাট করেছেন এবং সেখানে একটি ফিফটি নিয়েছেন।
এই দলে বদল আনতে গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে ছয়জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তিনজন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান—জাকের আলী, শামীম হোসেন ও নুরুল হাসান—এবার জায়গা পাননি। আগের সিরিজে থাকা স্পিনার নাসুম আহমেদও 이번 দলে নেই।
চোটের সমস্যায় দুই পেসারের নামও বাইরে: হাসান মাহমুদ টেনিস এলবোতে ভুগছেন আর তানজিম হাসান পিঠে ব্যথায়। বিসিবি আশা করছে, এই দুই পেসার এ মাসের মধ্যেই সুস্থ হয়ে সিরিজে যোগ দিতে পারবেন।
ঘোষিত বাংলাদেশ স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
দলে ফেরেছেন: লিটন দাস, আফিফ হোসেন, নাহিদ রানা, শরীফুল ইসলাম।
বাদ পড়েছেন: জাকের আলী, শামীম হোসেন, নুরুল হাসান, নাসুম আহমেদ।
চোটের কারণে অনুপস্থিত: তানজিম হাসান, হাসান মাহমুদ।
নির্বাচকরা আশা করছেন ফিরতি খেলোয়াড়রা অভিজ্ঞতার বদলে দলকে স্থিতিশীলতা ও মধ্যম দেয়াল দিতে সক্ষম হবেন, আর পাকিস্তান সিরিজ হবে তাদের নিজের ফর্ম ফিরে পাওয়ার সুযোগ।