চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ পর্বে ঘরের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়ে বেনফিকা ১-০ গোলে হেরেছে। তবে এই ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে স্টেডিয়ারে ঘটে যাওয়া এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছে দর্শকদের মধ্যে কিছু বেনফিকা সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণের কারণে। স্টেডিয়ামের আলোয় দেখা গেছে, কিছু সমর্থককে অশোভনভাবে বানরের মতো অঙ্গভঙ্গি করতে, যা ফুটবলে বর্ণবাদের সঙ্গে জড়িত অবমাননাকর ও অসংবিধানাকর্ম হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার পরই বেনফিকা ক্লাব তার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ফলাফলে জানা যায়, পাঁচ জন সমর্থকের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে স্থায়ী বহিষ্কারও থাকতে পারে।
এক বিবৃতিতে বেনফিকা বলেছে, ‘তাদের তদন্তের ভিত্তিতে, পাঁচ জন সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। ক্লাবের আইন অনুসারে, এই শাস্তি সর্বোচ্চ, যে অর্থে তারা বহিষ্কারও হতে পারেন।’ তারা আরও জানিয়েছে, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরে এবং ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এমন বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে এই তদন্ত শুরু হয়। ক্লাব স্পষ্ট করে বলে, কোনও ধরনের বৈষম্য বা বর্ণবাদ তারা মেনে না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
অন্যদিকে, ম্যাচের চলাকালীন এক অন্য ঘটনা ঘটে। রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন, বেনফিকার খেলোয়াড় জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি তার সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণ করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রেফারি বর্ণবিরোধী প্রোটোকল কার্যকর করে, যার ফলে প্রায় ১০ মিনিট ম্যাচ খণ্ডিত হয়।
সার্বিকভাবে, এই ম্যাচের বাইরেও ফুটবলে সমতা, সম্মান ও বৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ ও বর্ণবাদ বিরোধী অবস্থান এখন বিস্তারিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পুরো পরিস্থিতি পর্তুগালের একটি ক্লাব হিসেবে বেনফিকার কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এবং ফুটবলে সম্মান ও বৈচিত্র্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।