ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, শুধু একজন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। খবর রয়েছেআল জাজিরার।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রীতি ও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা চলাকালীন সময়ে এটি একটি সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইলের আকাশে লক্ষাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হয় এই হামলা। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হয়েছে। এই হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এর জবাবে, কয়েক ঘণ্টা পর ইসরাইলের উপর পাল্টা হামলা চালায় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিকে টার্গেট করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি।
ইরানের সেনাবাহিনী নিশ্চিত করে জানায়, তারা ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি (বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) বিবৃতি দিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জবাবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীও নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের দিকে আরও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হয়নি। অন্যদিকে, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হাইফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যভেদ হয়। এই হামলায় একটি নয়তলা ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর।
বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরাইলি সংবাদ চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ইন্টেরসেপটর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন আহত হলেও তার অবস্থা গুরুতর নয়। সরকারি উদ্ধারকারী দল মাজেন ডেভিড আদম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।