জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (এসএফডিএ) ঘোষণা দিয়েছে, তারা বাংলাদেশসহ মোট ৪০টি দেশের থেকে এখন থেকে মুরগি এবং ডিমের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়াও, আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট এলাকাগুলিও অর্ধেক আমদানি নিষেধের আওতায় রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন ও বিস্তার রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করে করা হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং মহামারি সম্পর্কিত আপডেটেড তথ্য অনুসারে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়মিত পরিবর্তিত হবে। তারা জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে আগের থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল, তবে সম্প্রতি ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নতুন করে আরও কয়েকটি দেশ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে, উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণকে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, Indonesia, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনেগ্রো।
অতিরিক্তভাবে, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও ডিআর কঙ্গো দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলে আংশিক আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
তবে, এমন ক্ষেত্রেতো যেখানে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারের সনদ আছে, সেখানে প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংস এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। এই ধরনের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু এবং নিউক্যাসেল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করেছে এবং রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকে উৎপাদিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুসারে, সৌদি আরব বছরে প্রায় ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে থাকে। দেশটির সবচেয়ে বেশি ডিম আমদানি করে ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে। অন্যদিকে, মুরগির মাংসের প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা দেশটির নিজস্ব উৎপাদন থেকে পূরণ হয়, আর বাকি অংশের বড় কিছু আসে ব্রাজিল থেকে।