দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহাসিক আদালত দক্ষিণের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের ভিত্তিতে তাঁকে মূলত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা তিনি ২০২৪ সালে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য করেছিলেন। দেশের ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা যেখানে একজন শাসককে অত্যন্ত কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি), সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট कोर्टের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে আরও জানানো হয়, অভিযোগের মধ্যে ছিল সেই সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার দাবি, যা ইউনের বিরুদ্ধে আনীত হয়।
প্রসিকিউটররা এই মামলায় সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য মৃত্যুদণ্ডের দাবি তুলেছিলেন, কিন্তু আদালত প্রায় ৬৫ বছর বয়সী ইউনকে কঠিন শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও, এই মামলায় অন্য অভিযুক্তরা—সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উন, পুলিশ প্রধান চো জি-হো, সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিক ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েক—কে বিভিন্ন সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।
এ ছাড়া, এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনের সাথে আরও কয়েকজনকেও দণ্ড দেওয়া হয়। তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সরকারের সমালোচনামূলক গণমাধ্যমের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দেন।
অপরদিকে, গত জানুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে এই মামলাটি মূলত সামরিক আইন জারি বা না জারির ঘটনায় কেন্দ্রীভূত ছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, কিন্তু ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টা পরে সেটি প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, ১৪ ডিসেম্বর তাঁদের পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরে, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাস নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলো, যেখানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘশিক্ষাজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।