জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, সরকারী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে একটি প্রতারণার মাধ্যমে জনগণের সাথে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেদিন সংসদে শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, সেই একই দিনে সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তাদের সেটি করাননি। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই শপথের মাধ্যমে যোড়ানো ওই প্রক্রিয়াটিও ছিল একটি বড় ধরনের নিস্পত্তিহীনতা। নির্বাচনে অংশ নিতে জাতীয় সংসদ ও স্ব স্ব দলের শপথ নেয়া হলেও, সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণের জন্য শপথ গ্রহণে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এর ফলে গণভোটে জনেমতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে অবিচার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক মানসিকতা জাগ্রত হওয়ার আশা ছিল, পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও ছিল। কিন্তু নানা কারনে সেই প্রত্যাশা ভেঙে গেছে, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমরা এই নির্বাচনের ফল মেনে নিয়েছি দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে, তবে তার সঙ্গে কিছু আলাদা দিকও লক্ষ্য করা উচিত। সেই সঙ্গে, এই পরিস্থিতিতে তিনি বলেন, শপথ না নেওয়া সরকারের এক ধরনের প্রতারণা, কারণ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ নেওয়া লাগবে। অথচ, ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে অনেকের শপথ না নেয়া থেকে সরকার তাদের বিচ্যুত করছে, যা দেশ ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা বলে মনে করেন তিনি। আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত তারা শপথ গ্রহণ করবেন। এই সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া ভবিষ্যতের দেশের কোনো মূল্যই নেই এবং এর মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব।